৮:২৮ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


যেদেশে ৩ দিনের মধ্যে একটি জেলার নাম পরিবর্তন করে দেয়া যায়

কোটার প্রজ্ঞাপন জারিতে এতো কালক্ষেপণ কেন ?

০৯ মে ২০১৮, ০৩:৩৫ পিএম | জাহিদ


মেশকাত মিশু, রাবি প্রতিনিধি : "যেদেশে ৩ দিনের মধ্যে একটি জেলার নাম পরিবর্তন করে দেয়া যায়, সেদেশে কোটার প্রজ্ঞাপন জারিতে এতো কালক্ষেপণ কেন? আমাদের এই আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়।  তারপরও একটি কুচক্রী মহল এই আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।  তাদেরকে বলব, আপনারা আমাদের ৫ দফা পড়ে দেখুন তাহলেই বুঝতে পারবেন।  আমাদের নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না।  কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাধীনতারর পর থেকে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত "।  কথা গুলো বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাহিদ। 

আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ আয়োজিত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোরশিদুল আলমের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ।  এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম মুবিন, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জমান, মুক্তিযোদ্ধারর সন্তান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম, শেখ মামুন, অর্থনীতি বিভাগের মো. আব্দুল হালিম প্রমুখ। 

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম মুবিন বলেন, বঙ্গবন্ধুই আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়।  আমাদের এই আন্দোলন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আজ ৩ মাস ধরে চলছে।  এরমধ্যে  কিছু অতি উৎসাহী প্রশাসন ও কুচক্রী মহল ৮ এপ্রিল কালো রাতে আমাদের ভাইদের উপর হামলা করে, যেটা ২৫ মার্চের কালো রাতকেও হার মানায়।  ৯ এপ্রিল মতিয়া চৌধুরী এবং আবুল মাল আব্দুল মুহিত অযাচিত বক্তব্য দেয় এমনকি রাজাকারের বাচ্চা বলে অভিহিত করে পুরো ছাত্র সমাজকে অপমান করায় ১০ এপ্রিল আমরা ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হই।  এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।  কিন্তু এটা দুঃখ জনক, শঠতাপূর্ণ বা ছলনাপূর্ণ যাই বলি যে কথা তিনি দিয়েছিলেন সে কথা তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করতে ব্যার্থ হলেন।  আমাদেরকে আবার আন্দোলনে আসতে বাধ্য করলেন।  কিন্তু একটা কথা বলে দিতে চাই এই পর্যন্ত কোন দেশে কোন ছাত্র আন্দোলন বৃথা যায় নি, আমরা এখানে কোন রাজনীতি করতে আসি নি।  আমরা একটা বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে এসেছি। 

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জমান অভিযোগ করেন, "একদল কোটদারী আমলা ও কুচক্রী  সচিব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুলবাল বুঝাচ্ছেন,

'স্লোগানমামুন' হিসেবে পরিচিত শেখ মামুন বলেন, যে আন্দোলন রাজপথে জন্ম নিয়েছে সে আন্দোলন রাজপথেই আদায় করা হবে।  আমাদের কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী।  আজ ২৭ দিন হয়ে গেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কিন্তু আজও আমরা প্রজ্ঞাপন পাই নি।  আমরা রাজপথে নামব কেন? আমরা অতিদ্রুত প্রজ্ঞাপন নিয়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই।  যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায়, আমজনতা চায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নাকি চায় তাহলে কে আটকায় গেজেট?"

মানববন্ধনের সভাপতি মাসুদ মোন্নাফ বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর কোন আশ্বাসে সাড়া দিবে না।  জাহাঙ্গীর কবির নানক আন্দোলনকারী দের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ৭ মে'র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমাদের নিয়ে খেলছে"

এসময় তারা কোন রকম কালক্ষেপণ না করে অতি দ্রুত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করার দাবি জানান।