৪:২৩ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


কিডনি রোগের কারণ ও লক্ষণসমূহ

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৮ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম :  মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি।  এই কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে।  বাংলাদেশে প্রাণঘাতী রোগের তালিকায় কিডনি রোগের অবস্থান চতুর্থ।  খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৮০ লাখ লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর ৩০-৪০ হাজার লোক এ রোগে মৃত্যুবরণ করে।  নতুন করে ৮-১০ লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 

মানবদেহের কোমরের কিছুটা ওপরে দুই পাশে দুটি কিডনি থাকে।  পরিণত বয়সে একটি কিডনি ১১-১৩ সেমি লম্বা, ৫-৬ সেমি চওড়া এবং ৩ সেমি পুরু হয়।  একটি কিডনির ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম।  তবে বাম কিডনিটি ডান কিডনি অপেক্ষা একটু বড় ও কিছুটা ওপরে থাকে।  প্রতিটি কিডনি প্রায় ১২ লাখ নেফ্রন দিয়ে তৈরি।  নেফ্রন হলো কিডনির কার্যকর ও গাঠনিক একক।  কোনো কারণে এই নেফ্রনগুলো নষ্ট হয়ে গেলে কিডনি দ্রুত অকেজো হয়ে যায়। 

কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।  স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে কিডনি রোগের লক্ষণগুলোর কথা। 

প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া।  কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়।  বিশেষত রাতে এই সমস্যা বাড়ে।  প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়।  অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না। 

প্রস্রাবের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ।  মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ।  যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে। 

প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। 

দেহে ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়।  কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়।  বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে। 

মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া
লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়।  এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়। 

সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়।  আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে। 

ত্বকে র‍্যাশ হওয়া
কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে।  এটি ত্বকে চুলকানি এবং র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। 

বমি বা বমি বমি ভাব
রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে। 

ছোটো ছোটো শ্বাস
কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়।  এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়।  এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন। 

পেছনে ব্যথা
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়।  পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়।  এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ। 


keya