২:০০ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




কতটা নিরাপদ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্টগুলো ?

২৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৪৯ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনা প্রথম ঘটেছিল ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে।  এর দেড় মাস পর একই ব্যাংকের বগুড়ার আদমদীঘি শাখার ভল্ট থেকে ৩২ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। 

সর্বশেষ এবছরের জুন মাসে শবে কদরের ছুটির দিন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ভল্ট থেকে সাত বস্তা টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল সোনালী ব্যাংকই নয়, জনতা, অগ্রণীসহ সব ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।  তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্টগুলো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার কথা থাকলেও সোনালী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ভল্ট এখনও পুরোপুরি নিরাপদ হয়নি।  যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। 

এমন আশঙ্কায় ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করে।  আরেকটি নির্দেশনায় সাইবার হামলা প্রতিরোধে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও বাড়াতে বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেন, ‘ভল্টসহ ব্যাংকের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে।  ঈদের বড় ছুটিতে যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। ’ তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার হামলার ব্যাপারেও ব্যাংকগুলোকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। 

এদিকে এবছরের জুন মাসে শবে কদরের ছুটি দিন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ভল্ট থেকে সাত বস্তা টাকা চুরির ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে গোলাম মোস্তফা ও বাবুল সিদ্দিকী নামে দুই কর্মকর্তাকে।  তাদের কাছে ভল্টের চাবি ছিল।  চুরির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসার বাহিনীর সদস্যরা।  এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।  এর দেড় মাসের মধ্যে একই ব্যাংকের বগুড়ার আদমদীঘি শাখার ভল্ট থেকে ৩২ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। 

একইভাবে যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রিল কেটে ভল্ট ভেঙে ২১ লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।  ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার দেয়াল কেটে ভল্ট থেকে এককোটি ৯৫ লাখ টাকা চুরি করে দুর্বৃত্তরা।  তারপর ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের জনতা ব্যাংকের জয়দেবপুর শাখার ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা।  ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান এক ব্যাংক কর্মকর্তা। 

এসব ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভল্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়।  ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ব্যাংক এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া আছে।  ব্যাংকগুলোতে অ্যান্টিথেফট অ্যালার্ম স্থাপন, নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তিন ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।  প্রথমত, ব্যাংকের ভল্টকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করার জন্য ইস্পাতবেষ্টনী নির্মাণসহ ভল্টে সিকিউরিটি টেস্টেড দরজা স্থাপন করতে হবে।  মেঝে ও ছাদসহ ভল্টের চারপাশের নির্মিত দেয়ালের নিরাপত্তার বিষয়টি পুরপ্রকৌশলীর কাছ থেকে প্রত্যায়িত হতে হবে।  দ্বিতীয়ত, ভল্টের অভ্যন্তরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ ভল্টে সিকিউরিটি অ্যালার্মের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখতে হবে।  ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থার (সেন্ট্রাল ইনফরমেশন সিস্টেম) নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ব্যবস্থা রাখতে হবে।  সব ভল্টের ভেতর স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (অটোমেটেড ফায়ার এক্সটিংগুইশার) স্থাপন করতে হবে।  তৃতীয়ত, ভল্টে রক্ষিত সব অর্থের সম্পূর্ণ বিমা করে রাখতে হবে। 

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেন, ‘ভল্টের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গাইড লাইন আছে, যেটা সবারই মানা উচিত।  তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা প্রত্যন্ত গ্রামে হওয়ায় ঝুঁকি থাকেই। ’ তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিতে দুস্কৃতিকারীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।  অনেকে মাটি খুঁড়ে চুরি করার চেষ্টা করে।  এ কারণে ব্যাংকের শাখা নিচতলায় না হওয়াই ভালো। ’ তিনি মনে করেন, ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির সময়ে প্রথমত নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো উচিত।  দ্বিতীয়ত, একটি শক্তিশালী মনিটরিং টিম গঠন করা, যারা নিরাপত্তা কর্মীদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখবেন। 

জানা গেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংকের শাখায় অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের টাকা জমা রাখা হয়।