৬:৪৩ এএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




কাপ্তাইয়ে শতবর্ষী কালি মন্দির

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালীতে ত্রিপুরা সুন্দরী কালিবাড়ী মন্দির পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী একটি শতবর্ষী প্রাচীন মন্দির। 

১৯১১ সালে চট্টগ্রামের  নোয়াশহর নামে পরিচিত কর্ণফুলী পেপার মিল এলাকায় সর্ব প্রথম মন্দিরটি স্থাপতি হয়।  সেসময় ধর্মপ্রাণ যুবক শ্রী নিরোধ বরন ভট্টাচার্য ও তার সহযোগিরা ভারতের বারাসাত এলাকায় ভ্রমনে গিয়ে কালি মায়ের মূর্তি এনে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজা অর্চনা শুরু করেন।  

পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে কর্ণফুলী পেপার মিল প্রতিষ্ঠাকালীন সময় মন্দিরটি রাইখালী বাজারের কর্ণফুলী নদী তীরে বর্তমান মন্দিরটি পুনঃস্থাপন করা হয়।  প্রতিষ্ঠাকালে চট্টগ্রামস্থ পতেঙ্গার অধিবাসী নলিনী রঞ্জন ব্যানার্জী মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন। 

বর্তমানে মিলন চক্রবর্তী পুরোহিতের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।  পুরোহিত মিলন চক্রবর্তী জানান, ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী মন্দিরে হামলা করার পর কালি মায়ের রোসানলে পড়ে এক প্লাটুন পাক সৈন্য প্রাণ হারায়। 

তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী কালি মন্দির হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দিরটি ব্যাপকভাবে পরিচিত।  অমাবশ্যা তিথি সহ অন্ধকার গভীর রাতে অনেক লোক মায়ের দর্শন পেয়েছেন। 

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাংকার মনোতোষ চৌধুরী, শিক্ষক তপন কুমার দে জানান, মন্দিরটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রাচীন মন্দির।  দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ ধর্মের লোকজন মন্দিরে পূজা দিতে আসে। 

বিশেষ করে পুত্র সন্তান কামনা, চাকরি প্রাপ্তি প্রত্যাশী, সৎ পাত্রে কণ্যাদান সহ বিভিন্ন মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য ভক্তদের মন্দিরে সমাগম ঘটে।  মন্দিরে প্রতি বছর শ্যামাকালি পূজা, মনষা পূজা, দূর্গাপূজা, বিশ্বকর্মা পূজা সহ নির্ধারিত বিভিন্ন পূজা অর্চণা হয়ে থাকে। 

তাছাড়া প্রায়শই বিবাহ, অন্নপ্রাসন, ভোগারতি সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  স্থানীয় যুবক টিটু দে জানান, স্বর্গীয় দেবেন্দ্র লাল ভট্রাচার্য, রাইখালী দোভাষী বাজার ও লিচুবাগানের সনাতনী দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তায় মন্দিরটি পাকা করা হয়। 

১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে তৎকালীন সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন রোধ সহ মন্দির উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্ধ করেন।  ১৯৯৬ সালে মন্দির পাকা করনের পুনঃ সংস্কার কাজ শুরু হয়।  ২০০০ সালে মুল মন্দির ও কালি মন্দির এবং দুর্গা মন্দিরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। 

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় কুমার সেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রীতম চন্দ্র দে কাজল জানান, বর্তমান কমিটি গীতা ভবনের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে।  মন্দিরের দর্শনার্থীদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা সহ আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করে মডেল মন্দিরে উন্নীত করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তারা জানান। 

এর জন্য তারা সরকার সহ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী দানশীল ব্যক্তিদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।   

 

সম্পাদনায়: সাইমুন/এসএনএন২৪.কম


keya