৯:৩৬ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




কবিরাজের ভূল চিকিৎসায় কলেজ ছাত্র পঙ্গু

১১ মে ২০১৯, ০৪:০৪ পিএম | জাহিদ


মো.মেহেদী হাসান, বরগুনা : বরগুনার পাথরঘাটায় জহির নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ইলিয়াস নামে এক কবিরাজের ভূল চিকিৎসার শিকার হয়ে একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।  পঙ্গুত্বের শিকার কলেজ পড়ুয়া ছাত্র বর্তমানে বাগের হাট একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধিন রয়েছে।  এদিকে জহিরের পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকাবাসীর কাছ থেকে সাহয্য তুলে দীর্ঘ দিন যাবৎ জহিরের চিকিৎসা করে আসলেও বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

জানা গেছে, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরলাঠিমারা গ্রামের বাসীন্দা দিনমজুর মো. আঃ হালিমের ছেলে পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মো. জহির পার্শ্ববতি হরিণঘাটা নামক স্থানে হাডুডু খেলতে গেলে প্রতিবেশী আবুল মোল্লার ছেলে মো. বশির মোল্লা কর্তৃক আঘাত পেয়ে বাম পা ভেঙ্গে যায়।  তাতক্ষণিক বশির মোল্লা জহিরকে স্থানীয় কবিরাজ একই এলাকার বাসীন্দা মো. চানমিয়ার ছেলে ইলিয়াস এর কাছে নিয়ে গেলে ইলিয়াস জহির ও তার পরিবারকে নির্ভয় দিয়ে বলে আমি চিকিৎসা করলে জহির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ন ভাল হয়ে যাবে এবং তার পা জোড়া লেগে যাবে। 

পরে কবিরাজ ইলিয়াস তিন দিনের একটি মুরগির ছানা পাটায় পিসে মলম তৈরী করে জহিরের ভাঙ্গা পায়ে মালিশ করে লতা-পাতা দিয়ে পা বেন্ডেজ করে দেয়।  কিছু দিন পরে পা থেকে দূর্গন্ধ বের হলে জহিরের পিতা আঃ হালিম কবিরাজের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে একজন চিকিৎসক বাড়িতে নিয়ে পায়ের বেন্ডেজ খুলে দেখে পায়ের অনেক অংশ পচে গেছে।  পরে জহিরের হতদরিদ্র পিতা আঃ হালিম জহিরের সহপাঠীদের সহযোগিতায় এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সাহায়্য তুলে ছেলেকে বাঁচাতে পাথরঘাটা হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জহিরের অবস্থা আশংকাজনক হওয়া তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। 

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জহিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করে।  এব্যাপারে জহিরের বড় ভাই মো. ঈসা মিয়া বলেন কবিরাজ ইলিয়াসের ভূল চিকিৎসার কারনে জহিরের বাম পায়ের নিচ থেকে হাটু পর্যন্ত পচে গেছে।  উন্নত চিকিৎসা হলে জহিরকে প্রাণে বাঁচাতে পারলেও তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। 

ঈসা মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কবিরাজ ইলিয়াসের ভূল চিকিৎসার কারনে আমার ভাই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেল, কোন দিন আমার ভাই হাটতে পারবে না।  ঈসা আরো বলেন যে আমরা এলাকাবাসীর কাছে হাত পেতে সাহায্য তুলে আমার ভাইয়ের চিকিৎসা করে আসলেও কবিরাজ ইলিয়াস প্রভাবশালী ও ধনি হওয়ায় আমাদের কোন খোঁজ-খবর নেয় না। 

এব্যাপারে কবিরাজ ইলিয়াসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এরকম অনেক চিকিৎসা করেছি,তবে দু-একটা সমস্য হতেই পারে এটা বড় ধরণের কোন ভুল না। 

উল্লেখ কবিরাজ ইলিয়াসের ভূল চিকিৎসায় আরো অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।