১:৩১ এএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




কবি আল মাহমুদ আর নেই

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০২ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদ।  ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। 

আল মাহমুদের পারিবারিক বন্ধু ও সহকারী কবি আবিদ আজম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, আল মাহমুদ রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  এর আগে রাত সোয়া ১০টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।  নিউমোনিয়াসহ বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটলিতায় ভুগছিলেন কবি আল মাহমুদ।  

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালে ভর্তির পর কবিকে শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে সিসিইউতে নেওয়া হয়।  এরপর অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।  তিনি ওই হাসপাতালের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।  পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যুর কাছে পরাজিত হন তিনি। 

ডা. আব্দুল হাই জানান, কবির নিউমোনিয়া বৃহস্পতিবার থেকে বেড়ে গিয়েছিল।  শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে প্রেসার কমে যেতে শুরু করে।  তবে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। 

এরপর রাতে হঠাৎ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়।  তখন হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যায়।  কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে প্রেসার মেইনটেন হয় না।  তখন ব্রেইন, কিডনি অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হলে মানুষ ক্লিনিক্যালি মারা যায়।  তারও সেটাই হয়েছে। 

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সক্রিয় থেকে যিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি কবি আল মাহমুদ।  আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিও তিনি।  এছাড়া তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। 

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।  ১৯৩৬ সালরে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মাহমুদ। 

সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি। 

লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। 

আল মাহমুদ ১৯৫৪ সালে লেখালেখির সূত্র ধরে ঢাকা আসেন।  কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন।  তার কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে স্থান করে দেয়।  


keya