৭:৩৩ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ১৩ মুহররম ১৪৪০


কবে পাবেন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি

১৩ মার্চ ২০১৮, ১০:১৪ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন আদেশের পর তার কারামুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া। 

সেসব প্রক্রিয়া শেষে কবে নাগাদ খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তার আইনজীবীরা। 

সোমবার (১২ মার্চ) হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর এখন খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তির সাধারণ প্রক্রিয়া হলো, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশটি লিখিতভাবে রায় প্রদানকারী আদালতে পৌঁছাবে।  এরপর রায় প্রদানকারী আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি বেইল বন্ড (জামিননামা) দাখিল করা হবে।  পরে ওই বেইল বন্ড জমা হলে বিচারিক আদালত কারাগার বরাবর একটি রিলিজ অর্ডার পাঠাবে।  সেই অর্ডার হাতে পাওয়ার পর খালেদা জিয়া জামিনে কারামুক্ত হবেন। 

তবে এসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।  অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  সেক্ষেত্রে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে কোনও আদেশ দেওয়া হলে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আগামীকাল আপিলে যাওয়ার জন্য এরইমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করছি।  আমরা আপিলে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চাইবো।  আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হলে খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তি ঠেকানো যাবে। ’

এদিকে সোমবার দুপুরে আদেশের সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘আমরা উভয়পক্ষকে শুনে এখন আদেশ দিচ্ছি।  চার বিষয় বিবেচনা করে এই আদেশ দেওয়া হচ্ছে।  ১. সাজার পরিমাণ বিবেচনা (অর্থাৎ বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্পমেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনা)।  ২. মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি।  ৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং ৪. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো। ’

রাষ্ট্রপক্ষ কিংবা দুদক আপিলের আবেদন করলেও আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া যুক্তিগুলো বিবেচনা করবেন এবং এর ফলে তিনি দুই/একদিনের মধ্যেই জামিন পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খালেদা জিয়ার আপিল ফাইলিং আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি বলেও জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।  তিনি বলেন, ‘আদালত এ মামলায় আমাদের একটি আবেদন (সময় আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন।  এখন আমরা আপিলে যাবো।  আপিলে আমরা যে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করবো তা আমরা সঙ্গে সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষকে জানাবো। ’ তবে খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। 

খালেদা জিয়ার জামিনের কারামুক্তির বিষয়ে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান মনে করছেন, হাইকোর্টের আদেশ আপিলে বহাল থাকলে এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য কোনও মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকলে তিনি মুক্তি (জামিনে) পেতে পারবেন। 

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত।  রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  তিনি সেখানেই সাজা ভোগ করছেন। 


keya