৮:৪৪ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২২ সফর ১৪৪১




কবি রবীন্দ্র গোপের জন্মোৎসব

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


আগামী ৫ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য পাদদেশে পালিত হবে সোঁদামাটির গন্ধে ঋদ্ধ প্রেম ও দ্রোহের কবি রবীন্দ্র গোপ এর জন্মদিন।  এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: রবিউল ইসলাম।  সকাল ১১ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ নিবেদন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে নবান্ন উৎসবের শুভ সূচনা, নবান্ন উৎসব ও কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন, নবান্ন উৎসবে লোকজীবন প্রদর্শনী পরিদর্শন, কবি কণ্ঠে জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ ও কর্মচারীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যে স্নাতক রবীন্দ্র গোপের   জন্ম ১৯৫১ সালের ৫ নভেম্বর,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অরুয়াইলের জয়নগরে।   তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক।  তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: কবিতা:-পালালো কুমারী সাপ, অরক্ষিত সভ্যতা, মানুষ এবং মানুষ, পতাকায় রক্তের দাগ, জলের বাড়ি মাঝ উঠোনে, ঈশ্বরের নিখোঁজ সংবাদ, দাঁড়াও আসছি, শেতাঙ্গ ইঁদুরের গল্প, মুজিব আমার অন্তরে বাহিরে, ছাগলের হাসি ও একটি পাউরুটি, ত্রিশলক্ষ সূর্যের কবিতা, চিবুকে ঈশ্বর, বত্রিশের সিঁড়ি, জলকণা, জয় বাংলা, মাধবী ও মাধবী।  গল্প:-রোদহীন বসতি, পরাণের স্বাধীনতা, স্বপ্ন ও চাঁদের কঙ্কাল, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, যুদ্ধ জয়ের গল্প, লাল ইটের বাড়ি ও বিপ্লবীর রক্ত।  উপন্যাস:- বাতাসে বারুদের গন্ধ, ঘূর্ণি, নিষিদ্ধস্বর্গ, নরকের মানব, মুক্তিযুদ্ধ পথেপথে। 

কবি সম্পর্কে  জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, দ্যুতিমান এ কবি শব্দে শব্দে আলো ছড়ায় আঁধারাচ্ছন্ন সমাজের গভীরে।  পাঠক হৃদয়কে অনন্ত আনন্দধারায় পুলকিত করে এ কবির কবিতা ।  বিষয়বৈচিত্র চিন্তার জগতে প্রগাঢ় বোধে নাড়া দেয় রবীন্দ্র গোপের কবিতা।  ধুলোমাটির গন্ধ মাখা কবিতার শব্দে শব্দে উঠে আসে অদ্ভুতভাবে মায়াময় দেশমাতা।  ছন্দের ঝংকারে দোলায়িত করেন পল্লী মায়ের অনন্ত অসাধারণ রূপ মাধুর্যকে।  আঁধারের আড়াল থেকে আলোর হাসি দেখেন আর লেখেন অসুন্দরের বিরুদ্ধে সুন্দরের জয়গান।  অন্তর্গত বিষাদ থেকে কবি আবিস্কার করেন প্রতিদিনের বদলে যাওয়া পৃথিবী।  কাব্য বৈচিত্রে ছন্দের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং ছন্দ বর্জনের সাহস নিয়ে কবির পদযাত্রা।  বুভুক্ষের আর্তনাদ কবিকে নতুন পৃথিবীর ঠিকানায় টেনে নিয়ে যায়।  কবি রবীন্দ্র গোপ একজন মুক্তিযোদ্ধা।  তাঁর কবিতার শাণিত শব্দের বারুদ এখনো মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।  কবি নক্ষত্র জয়ের স্বপ্ন দেখেন না তবে মানবতার জয়গান তাঁর কবিতাকে সত্য, সুন্দর আর কল্যাণের দিকে পাঠককে জাগ্রত করে। 

রবীন্দ্র গোপ সমকালীন বাঙলা কবিতার উজ্জ্বল কণ্ঠস্বর।  কবিতার কোমল ঝর্ণা আশ্রয় লাভ করে প্রকৃত কবির আত্মায়।  শব্দ পঙক্তিমালা চন্দ্র মল্লিকার মত পুষ্পিত হয়ে আজ যে গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে, তারই নিখুঁত নিপুণ সৌরভে আপ্লুত হয়ে কবিতায় বিলীন করে দিয়ে যে কবি নিজেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন কবিতার অমর বাগানে তিনি কবি রবীন্দ্র গোপ। 

তিনি কথাশিল্পী সাহিত্য পুরস্কার-স্বর্ণপদক, বিকাশ সাহিত্য পুরস্কার, কবি সুফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার স্বর্ণপদক, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘রূপসী বাংলা’-২০১০ পুরস্কার ও চয়ন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।  তাছাড়া আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনষ্টিটিউট কবিকে ‘ম্যান অব দি ইয়ার-’ ‘৯৮’ সম্মানে ভূষিত করে।   

বর্তমানে তিনি  বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ-এর পরিচালক।