১২:০৪ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | | ২ সফর ১৪৪২




কেমন কাটছে শিশুদের গৃহবন্দি দিন?

১১ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৬ এএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী, চট্টগ্রামঃ প্রতিদিনই বাড়ছে আতঙ্ক।  প্রায় এক মাস বন্ধ হয়ে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।  

সাধারণ ছুটির কারণে চলাফেরাতেও রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ।  

এসবের মধ্যে একপ্রকার গৃহবন্দি বন্দরনগরীর শিশুরা।  বারান্দার গ্রিল ধরে এক চিলতে আকাশ দেখাটাই তাদের জন্য এখন বাইরে যাওয়া!
প্রকৃতি এখন দারুণ সাজে সেজেছে। 

 বসন্তের বিদায়বেলায় গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা।  ফাঁকা সড়কের ইতিউতিতে নতুন নতুন ফুলও ফুটেছে।  কিন্তু এ ফুল দেখে যারা সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত হয়, সেই শিশুরাই এখন চার দেয়ালে বন্দি। 

করোনা আতঙ্কে বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠের সবুজ ঘাস অপেক্ষায় রয়েছে সঙ্গীদের।  সেই সঙ্গীরা যে এখন ঘরে বসে টিভি দেখে, ইউটিউব দেখে আর বাবা-মায়ের কাছে গল্প গুনে দিন পার করছে। 

এক মাস হয়ে যাচ্ছে এমন।  এতে প্রায় অস্থির হয়ে উঠছে শিশুরা।  বাবা-মায়ের কাছে বাড়ছে বাইরে নিয়ে যাওয়ার আবদার।  কিন্তু নানা কথায় ভুলিয়ে শিশুকে নিয়ে ঘরের মধ্যেই কখনও ক্রিকেট, কখনও ফুটবল খেলছেন বাবা-মায়েরা।  আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। 

চার দেয়ালে বন্দি থেকে শিশুরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন নগরীর বনানী আবাসিকে বাসিন্দা রাহেনা বেগম। 

এসএনএন২৪.কমকে বললেন, আমার বড় চেলে তাসিফ।  ও চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।  আর ছোট মেয়ে তানিসা একবারেই ছোট।  বড়জন ঘরে বসে আসলে বিরক্তই হয়ে গেছে।  

সারাদিন টিভি দেখে, কখনও মোবাইলে গেমস খেলে, আবার কখনও রংতুলি নিয়ে বসে।  

তাসিফ বলেন, ঘরে বসে থাকতে কতক্ষণ ভালো লাগে? প্রায় এক মাস স্কুল বন্ধ।  কোচিংও বন্ধ।  সিলেবাসের পড়াশোনাও শেষ।  এখন আসলে কিছুই করার নাইই। 

চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি  থেকে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে ইভা।  ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা ইভার কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ।  কবে ফলাফল প্রকাশ হবে, সেই চিন্তার পাশাপাশি সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটি নিয়েও টেনশন রয়েছে তার। 

সে বলছে, ফলাফল নিয়ে তো টেনশন কাজ করছেই।  কিন্তু সবচেয়ে বেশি টেনশন সামনের দিনগুলো নিয়ে। 

করোনায় আটকে থাকা দিনগুলো কেমন কাটছে, জানতে চাইলে সে বলে, ১৯ মাসের ছোট্ট একটা চাচাতো ভাই আছে।  ওর নাম মোহসিন ফারাজ আয়ান।  ও এখন হাঁটতে পারে, আধো আধো কথা বলে।  ওর সঙ্গে খেলা করে, টিভি দেখে, আপুর সঙ্গে দুষ্টুমি করে কেটে যাচ্ছে। 

ইভার মতো এত চিন্তা নেই সামিউল আল সামিরের।  সে ব্যস্ত সময় পার করছে পাশের বাসার দুই বাচ্চা নুসরাত ও রায়হানের সঙ্গে খেলা করে। 

সামিউলের মা সালমা আহমেদ এসএনএন২৪.কমকে বলেন, আসলে কবে কী ঠিক হবে, তা কেউ জানে না।  এজন্যই টেনশন কাজ করছে।  সবসময় বাচ্চাকে চোখে চোখে রাখতে হচ্ছে।  যাতে বাইরে না যায়। 

করোনার এই সংকটকালে বাচ্চাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো যেন ইতিবাচক হয়- অভিবাবকদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলে মনোবিজ্ঞানী ডা. মেখলা সরকার বলেন, বাচ্চার সঙ্গে যতবেশি কোয়ালিটি টাইম কাটাবেন, কথা বলবেন, যত বেশি তথ্য তার সঙ্গে শেয়ার করবেন; তত বেশি তার উদ্বিগ্নতা কমবে।  এর ফলে বাচ্চার মধ্যে স্থিরতা আসবে।