১২:০৩ পিএম, ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ শাওয়াল ১৪৪১




কেমন যাচ্ছে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের দিনকাল?

১২ এপ্রিল ২০২০, ০৬:১৮ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ শ্রমিকদের নিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলতে গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তি দিয়ে আজকের লেখনী,,, "ব্ল্যাকমার্কেটিং কারা করে? যাদের পেটের মধ্যে দুকলম বিদ্যা রয়েছে তাঁরাই ব্ল্যাকমার্কেটিং করে। 

স্মাগ্লিং কারা করে? যারাই বেশি পড়ালেখা করেছে তারাই স্মাগলিং করে। 

আমরা যারা শিক্ষিত,আমরা যারা বুদ্ধিমান,ঔষধের মধ্যে ভেজাল দিয়ে বিষাক্ত করে মানুষকে খাওয়ায় তারাই। 

নিশ্চয়ই গ্রামের লোক এসব পারেনা,নিশ্চয়ই আমার কৃষক ভাইয়েরা পারেনা,নিশ্চয়ই আমার শ্রমিক ভাইয়েরা পারেনা"।  ক্ষুধার যাতনায় স্বচ্ছল মানুষগুলো যখন নাক ডেকে ঘুমায় আর বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন পৃথিবী জেগে উঠার আগেই এই শ্রমজীবী  মানুষগুলো জেগে উঠে জীবিকার তাগিদে। 

এই শ্রমজীবী মানুষগুলো শরীরের রক্তকে পানি করে,নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে নিজেই নিজের সাথে বাজি ধরে,  পরিবারের বিরাট একটি বোঝা মাথায় নিয়ে সংসারের গ্লানি মোচনের জন্য কলকারখানায় কাজে নিয়োজিত হয় এরাইতো সত্যিকারের শ্রমিক। 

সূর্যের তেজ দীপ্ত আলো শরীরকে পুড়িয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অন্ন যোগাতে অবুঝ শিশুদের কতোই না সান্ত্বনা দিচ্ছে।  শ্রমের আর শ্রমিকের কথা বলতে গিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বলেন,,,,'Labor is the superior of capital, and deserves much the higher consideration'. অর্থাৎ শ্রমই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ মূলধন, এবং এটিই সর্বোচ্চ বিবেচনার দাবি রাখে। 

এই শ্রমিক আর দিনমজুররা তাদের প্রাপ্য আদায় করতে নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছে। 

তাদের শ্রমের বিনিময়ে যেকয়টি টাকা উপার্জন করে সেটি দিয়েতো হাড়িতে ভাত রান্না হয়,নাহলে যে চুলায় আগুন জ্বলে না।  কতো শ্রমিক আছে যাদেরকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারছিনা।  কতো টাকা অযথা নষ্ট করি কিন্তু রিকশার ভাড়া গুনতে মুখ থেকে থুথু লাগিয়ে গুনে দিতে হয় আর একটু বেশি দাবি করলেই খারাপ ভাষা ব্যবহার করি। 

অভাবের তাড়নায় যখন কোনো বৃদ্ধ তাঁর ঠেলা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে আর তাঁর জীবনকে নব আবিস্কারের চেষ্টা করেন তখন আমরা তাকে শ্রমিক বলি। 

ক্ষুধার তাড়নায় যখন কোনো গর্ভবতী নারী তার সন্তানকে শাড়ীর আঁচলে পিছনে গীট মেরে একটা একটা ইট ভাঙতে থাকে তখন আমরা তাকে শ্রমিক বলি। কিন্তু তাদের একটা দিন কর্মহীন থাকা মানেই যে, পেটে ভাত না পরা সেটি কয়জন লোকো চিন্তা করছি? আমরা শুধু জানি টাকা দিলে বাঘের চোখ ও মিলে।  আসলেই টাকায় সব এই টাকায় সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যিতে রূপ ধারণ করায়। 

এতোক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের উপার্জনে শতো কষ্টের কথা তুলে ধরা হলো,মূলকথা হলো চলমান পরিস্থিতি লকডাউনে লকডাউনে যেভাবে যাচ্ছে,,,, দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের কি অবস্থা সেটা ভাবার বিষয় নয় কি? বলতে গেলে দেশ নয় বরং বিশ্ববাসী এই চরম সংকট মুহূর্তে নিজেদেরকে নিরাপদ করার জন্যে এই পরিস্থিতির স্বীকার তাতে কারো হাত নেই, কেউ দোষীও নয়। 

কিন্তু এদেশে লক্ষ লক্ষ লোক যারা শ্রমের বিনিময়ে নিত্যদিন চলে তাঁরা যদি কর্মহীন হয়ে পড়ে নিশ্চিত তাদের পরিবার উপোস দিনযাপন করছে বা করবে।  যেভাবে ফেইসবুকে ভাইরাল হচ্ছে "চাউল চোর"-নিয়ে সেটা এই জাতির জন্য কলঙ্কের। 

যেখানে সরকার দলীয় লোকের কাছে জনগণের খাদ্যগুলো নিরাপদ নয়, যাদের উচিত ছিলো নিজের পকেট থেকেও এই দূর্যোগের মুহূর্তে কিছু অর্থ খরচ করে যাঁরাই আপনাকে-আপনাদের জনপ্রতিনিধি বানিয়ে পাঠিয়েছেন তাদের দুয়ারে দুয়ারে হাতে হাতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো।  আর তা না করে চাউলের উপর লোভ সামলাতে পারলোনা যার ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীর চেয়ে " চাউল চোরের"-সংখ্যা বেড়ে যায়। 

এমন মুহূর্তের কথায় বলতে চায় যে, যাঁরা গাছ কেটে-বাঁশ কেটে চলে, ইট ভেঙে-দৈনিক কাজ করে চলে তাদের অবস্থা খুবই নাজুক।  আমরাতো যেমন তেমন করে চলি। তাদের কথা আমরা লেখনীতে বলি। তাঁরা আজ বড়ই অসহায়, তারা এতোকিছুর পরেও লাঞ্চিত, বঞ্চিত অনেক সময় হতে হয় অপমানিত।  আমরা তাদের মুখে অন্ন দিয়েছি হয়তো একটি বার, আবার কারো কপালে জুটেছে কিনা তাও সন্ধিহান।  তবে সেসব শ্রমিকের ত্যাগ-পরিশ্রম-অবহেলিত অবস্থা নিয়ে আমরা চাই তাদের কাছে  সাহায্যের হাত প্রসারিত করে দিই। 

তাদের মুখে হাসি ফোঁটায়। 
পরিশেষে বলি,,,,
"সবার সুখে হাসবো আমি কাঁদবো সবার দুঃখে,নিজের খাবার বিলিয়ে দিব অনাহারীর মুখে"। 
লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।