৫:০৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

কমলগঞ্জে প্রতিবন্ধী নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে প্রাণ নাশের হুমকি

০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১২:১১ পিএম | মুন্না


সৈয়দ ফয়েজ আলী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কু-প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে শ্লীলতাহানি করতে না পেরে সংখ্যালঘু অনগ্রসর শব্দকর সম্প্রদায়ের এক প্রতিবন্ধী নারীকে মারপিট করার লিখিত অভিযোগ করা হয় থানায়।  আহত শব্দকর প্রতিবন্ধী নারী এখনও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।  সোমবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধাতাইলগাঁও গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 

কমলগঞ্জ থানায় সোমবার সন্ধ্যায় করা নির্যাতিতা নারী প্রতিবন্ধী নারী সীমা শব্দকরের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনকারী মো: আদর মিয়া (৪৮)মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ছিলেন।  তিনি খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক।  আদর মিয়া প্রায়ই রাস্তায় চলাচলের সময় তাকে সীমা শব্দকরকে-(৩৫) কু-প্রস্তাব দিতেন। 

এতে তিনি প্রতিবাদ করলে রোববার হাস চুরির অভিযোগ তুলে তার (সীমা শব্দ করের) পথরোধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।  এক পর্যায়ে তাকে রাস্তায় ফেলে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করেন।  এমনকি তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যারও চেষ্টা করেন।  এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবদ্ধী নারী হাল্লা চিৎকার করলে গ্রামবাসীরা ছুটে আসলে নির্যাতনকারী আদর মিয়া তাকে (সীমাকে) ছেড়ে যাবার সময় আবার প্রাণ নাশের হুমকি দেন। 

পরে গ্রামবাসীরা নির্যাতিতা প্রতিবন্ধী নারীকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।  গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত নির্যাতিতা শব্দকর প্রতিবন্ধী নারী কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতনকারী আইন অমান্যকারী প্রকৃতির লোক।  সে প্রায়ই গ্রামের নিরিহ মানুষজনকে মারধর করে থাকে।  সে কোন সামাজিক বিচার মানে না।  তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও তিনি দাবী করেন। 

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই ফরিদ আহমদও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।  অভিযুক্ত আদর মিয়া তার কাছে স্বীকার করে বলেছেন, তাকে গালিগালাজ করায় তিনি সীমাকে কয়েকটি চড় থাপ্পড় মেরেছেন মাত্র।  এখন বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে জোর চেষ্টা করছেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আদর মিয়া বলেন, সীমা শব্দকর চোর প্রকৃতির।  একটি হাঁস চুরির ঘটনা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে উল্টো তাকে গালিগালাজ করলে তিনি কয়েকটি চড় থাপ্পর মেরেছেন।  তিনি শ্লীলতাহানির কোন চেষ্টা করেননি। 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, প্রতিবন্ধী শব্দকর নারীকে মারপিটের ঘটনা সত্য।  অভিযোগটি আমলে নিয়ে নির্যাতনকারীকে গ্রেফতারের জন্য তিনি থানার ওসিকেও বলেছেন বলে জানান।