১:০৫ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১৫ মুহররম ১৪৪০


ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচে দলকে জেতানোর পর আনন্দাশ্রু ঝরেছিল ম্যাশ

০৮ মার্চ ২০১৮, ০৯:০৬ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ৬ এপ্রিল ২০১৭।  ৮ মার্চ ২০১৮।  কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১১ মাস পর খেলতে নামছে বাংলাদেশ, ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফিতে।  আগের ম্যাচটি ছিল মাশরাফির স্মৃতি বিজড়িত।  ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচে দলকে জেতানোর পর আনন্দাশ্রু ঝরেছিল ম্যাশের চোখ দিয়ে।  যেটা আজ প্রেরণা হতে পারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের জন্য। 

হাল আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরম্যাট টি-টায়েন্টি। কিন্তু জনপ্রিয় এ ফরম্যাটে খুবই অজনপ্রিয় দল হলো বাংলাদেশ।  আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ দশ নম্বরে, আফগানিস্তান অবস্থান নবম! ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটে ধামধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে সেভাবে অভ্যস্ত নন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। 

ভারতের সঙ্গে সাকুল্যে মাত্র ৫ টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, হার সবকটিতেই।  মুশফিক- রিয়াদ অতো বেশি আবেগী না হলে একটা ম্যাচ অবশ্য জিততে পারত টাইগাররা।  ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ (বিশ্বকাপে) ১ রানে হেরে যেতে হয়েছিল।  সেই হার এখনও পুড়ায় সমর্থকদের।  নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ ভারতকে হারিয়ে সেই জ্বালা জুড়াতে পারবেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের দল?

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কঠিন সময়ে ঠেলে দিয়েছে হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা।  দেশের মাটিতে দুটি ওয়ানডে, এক টেস্ট এবং দুই টি-টোয়োন্টিতে লঙ্কানদের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় তামিমরা।  বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে যান হাথুরু বাহিনী।  কী কারণে, কেন এমন টানা বিপর্যয়? যে দল দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত ও পাকিস্তান ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে হারেত পারে সেই দল নড়বড়ে একটা দলের কাছে এভাবে হেরে যাবে ? কী হয়েছে দলের ? সাকিবের অনুপস্থিতি ? কিন্তু সাকিব ছাড়াও তো অনেকবার ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। 

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দারুণ এক সুখস্মৃতি আছে টাইগারদের।  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০ ওভারের ম্যাচে যে একটি জয় আছে সেটা এই মাঠেই।  ম্যাচটা ছিল মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ।  সাবেক কোচ হাথুরুসিংহের চাপে শ্রীলঙ্কা সফর চলাকালীন টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন মাশরাফি।  প্রেমাদাসায় নিজের বিদায়ী ম্যাচে ৪৫ রানের অসাধারণ জয় এনে দেন দলকে।  শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে কীভাবে হারানো যায়, সেই পথ দেখিয়ে গেছেন মাশরাফি। 

সেরা দল নিয়ে আসেনি ভারত।  কোহলি, ধোনি, ভুবনেশ্বর কুমার, বুমরাহ হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো সেরা তারকাদের দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম।  তারপরেও ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী দল।  রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, দীনেশ কার্তিক, মানিষ পাণ্ডে, সুরেশ রায়নাদের মতো ব্যাটসম্যানরা আছে দলে।  স্পেনার চাহাল তো একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয় দিতে পারেন।  যুবদলের বেশ কয়েকজনকে স্থান দেওয়া হযেছে দলে।  যারা নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ জয় করে এসেছেন কিছু দিন আগে।  একটা সময় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এক সঙ্গে অন্তত তিনটি জাতীয় দল গড়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন খেলোয়াড় ছিলেন।  এখন অনেকটা ভারতের সেই অবস্থা।  বোলিং ব্যাটিং মিলে ভারতই বিশ্বের এক নম্বর দল। 

প্রেমাদাসার উইকেট সাধারণ ব্যাটিং সহায়ক।  টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আরো বেশি ব্যাটিং উপযোগী করে তোলা হযেছে উইকেট।  মানে প্রচুর রান হবে এখানে।  বোলারদের জন্য খুব কঠিন হবে।  আশার কথা, দুবাইয়ের মরা উইকেটেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজ।  ১১ মাস আগের সেই ম্যাচে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন কাটার বয়।  নিয়েছিলেন চার উইকেট।  আজও মোস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে আছে দল।  তাকিয়ে আছে সৌম্য, তামিমের দিকেও।  কী হবে আজ।  ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।