২:৩২ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




করোনা নিয়ে অবহেলা বা তামাশা নয়

০৮ এপ্রিল ২০২০, ১০:৪৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ দিন যতো ঘনিয়ে আসে হতাশা ততই বেড়ে চলে, মাঝে মাঝে চিন্তা আসছে বিশ্বের চরম এই দূঃসময়ে বেঁচে থাকতে পারাটাই এখন বিশ্ববাসীর কাছে বিষ্ময়কর।  

আমরা কি সে তথ্য জানিনা? যে একদিনে পৃথিবীর শক্তিশালী দেশটিতে সেদিন ১৪৮০জন লোক মারা যায়, তারা কি দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা গিয়েছিল? লকডাউন শব্দটি তেমন সবার কাছে গুরুত্ব বহন না করলেও সে যুক্তরাজ্যে ৬ মাসের লকডাউন ঘোষণা করেছিলো সেই খবরগুলোই কি আমাদের বিবেক কে নাড়া দেই না? ইতালি-স্পেনের মতো ধনী রাষ্ট্র গুলোতেও দিনে ৬০০-৭০০ লোক মারা যায়, বর্তমানে বিশ্বের ৭০হাজারেরও অধিক লোক মারা গিয়েছে এমনকি এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১০লাখে ছাড়িয়ে গেলো। 

 মাত্র ৫৮ দিনের মাথায় ০১ থেকে ১০০০-এ পৌঁছায়, আর ০২ হাজারে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল মাত্র ০৪ দিন।  ০২ হাজার থেকে ০৩ হাজারে যেতে সময় লেগেছে মাত্র ০২ দিন। 

এই তথ্য কম বেশি সবাই জানে তারপরও কেন এতো অবহেলা? এই দেশের জনগণের সুপ্ত বিবেক জাগ্রত হবে কখন জানিনা, তবে এতটুকু আইডিয়া করে নিতে পারছি যখন কোনো করোনা আক্রান্ত রোগির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হবে, দেখবেন অলিম্পিকে উসাইন বোল্টকে টপকে বাঙালি গোল্ড মেডেল নিয়ে আসবে, আসলে সেটা মৃত্যু ভয়ে পালানোর দৌড় ছিলো কারণ এই ছাড়া কিভাবে দমাবে আর ঘরমুখো করবে ভাবায়।  

উপহাসের কথা নয় সেটা আমরা হারে হারে টের পাচ্ছি কি করবে সাধারণ পাবলিক গুলোকে? পিটিয়ে হচ্ছে না, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছে না, নিজের জীবনের কথা বাদ দিন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথাও ভাবছেনা।  

কিছু কিছু বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখের কথা শুনলে গায়ে জ্বালা ধরে।  বলে কি! কিসের করোনা, কিচ্ছু হবেনা এইগুলা আল্লাহ দিয়েছে আল্লাহ নিয়ে যাবে।  সেটাতো সবাই জানে কিন্তু সেটা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের করণীয় যা তা মানতে তো হবে। 

 প্রথম সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্রামাঞ্চলে খতমে কোরআন, বাড়ি বনদ্ মহামারী বিপদ কেটে যাওয়ার জন্য ছাগল জবেহ্ সহ মসজিদে -বাড়িতে বসে খতমে ইউনুস সহ যে যেভাবে পারছে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছে।  এতোদিন নিদিষ্ট সময়ের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছিলো যাতে অতি প্রয়োজনে জনমনে কষ্ট না হয়। 

 আমাদের অবহেলার কারণে বর্তমানে দেশ অবনতির পথে হাঁটছে সেটা বুঝার বাকি নেই।  প্রতিটি গ্রাম-শহর লকডাউন কিন্তু ঢাকা-চট্রগ্রামে কোনো যানবাহন-লোক প্রবেশ করতেও পারবেনা, বেরও হতে পারবেনা তাহলে আমরা কেমন সংকটে আর সংশয়ে আছি বুঝা যায়? কেউ কোনো কাজে আসা ব্যক্তি চট্টগ্রামে তেমনি কেউ অবস্থান করছে ঢাকায় তাঁরাতো পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ফেরীতে অপেক্ষা করছে পরিবারের স্বজনদের সাথে বাকিটা সময় কাটাবে তাঁরা আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নয়কি?খাদ্য বিতরণ ও অসহায় ও হতদরিদ্রদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।  

সরকারের পক্ষ থেকেও যথাসাধ্য চেষ্টা অব্যাহত রেখে চলেছে গরীবদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের জন্য একটি অপশন চালু রেখেছে যাতে কেউ না-খেয়ে দিনযাপন করে।  প্রয়োজনে কল করলে খাবার পৌঁছে যাবে।  বহির্বিশ্বে লাশের মিছিল আর আমরা তামাশা-আর হেলায় হেলায় কাটিয়ে দি।  

জানিনা কাল যে বেঁচে থাকবো তারপরও বলা হচ্ছে না প্রিয়জনদের আমারকাছে পাওনাদার কে,আমি কারো কাছে পাচ্ছি কিনা, করুণ মৃত্যুতে কেউ এগিয়েও আসবেনা আর কোনো ভাই প্রতিবেশী আসবেনা সেটাও আগাম জানতে পারছি, কেউ লাশ নিয়ে-জানাজা-কবরস্থ কোনোটাই গুরুত্ব পাবেনা তারপরও কেন মাথায় আসছেনা কি ভয়ানক ও বিপদজনক একটি ভাইরাসের মোকাবেলায় জাতি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে আর সাথে চরম হতাশায় ভুগছে যাঁরা নিজেদের এখনো সুস্থ মনেকরা সমগ্র বিশ্ববাসী। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 


keya