৭:৩৮ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | | ৯ সফর ১৪৪২




করোনা" পরিস্থিতির গভীর পর্যবেক্ষণ

১৪ মে ২০২০, ০৭:১৩ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ আজকের কলামের গতানুগতিক বচন আর করোনায় মৃত্যুকে যাঁরা করলো আলিঙ্গন।  

সেই সাথে আজ অব্দি যে বিপর্যয় মোকাবিলা করতে থাকা প্রিয় দেশবাসী আর রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তাদের দিনক্ষণ কেমন যাচ্ছে তার গভীর পর্যবেক্ষণ।  

আমার এই তৃতীয় নয়নে দেখা আর অনুভবে নানান জল্পনা কল্পনা ঘুরপাক খাই অবিরত।  

আর কতোদিন এইভাবে লকডাউনে দূর্বিষহ জীবন যাবে অজানা কারণ কারো স্বজন- কারো প্রিয়জন-সর্বোপরি প্রিয় দেশের লকডাউন ভঙ্গকারী অসাধারণ জনগণ নাজানি কেমন করে জীবন অতিবাহিত করছে।  

মানুষ কয়মাস কাটাতে পারে ঘরবন্দী/বাসাবন্দী হয়ে? কারাবন্দী মানুষগুলোই হয়তো জানে যাদের দীর্ঘদিনের শাস্তি হিসাবে কারাগারে কাটিয়েছে এক একটা দিন কেমন গেছে তারাই জানে কিন্তু শাস্তির বহির্ভূত জনগণের কিঞ্চিৎ ধারণা এই কয়েকটি মাসেই প্রকাশ পাচ্ছে স্বাধীনভাবে চলা আর বাহিরের আলো-বাতাসে নির্বিঘ্নে উদাস মনে ঘুরা, মানুষ কতোটুকু স্বস্তি পায় তা হারে হারে বুঝতে পারছে। 

 পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তি যাঁরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা তাঁরা নিশ্চয়ই কোনো একটি কক্ষে গাদাগাদি করে জীবন অতিবাহিত করছে যা অতীত ধারণা বলেই দেয়।  

একদিকে রুমে থাকার নিয়মকানুন তারমধ্যে একি কক্ষে চব্বিশ ঘণ্টা অবস্থান খুব ভয়ানক পরিস্থিতি বলা যায়।  

একটি সময় প্রবাসীরা কোনো একটি মাসে দেশে টাকা পাঠানো সম্ভব না হলে যেকোনো ভাবে চালিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু পরিবারের কোনো সদস্যদের জন্য চিন্তিত হতে হয়নি।  এখন দু'প্রান্তে শুধুই দুশ্চিন্তা একপ্রান্তে রাষ্ট্রের জনগণ বিয়োগের খাতা ভারী হয়ে আসছে অপরদিকে ওপারের চিন্তা পরিবার আর পরিবারের চিন্তা ওপারের। 

 এই দেশে বস্তিবাসী আর ছিন্নমূলের বসবাসও কম নয় যাদের দিন চলে যায় বাহিরে বাহিরে এখন তারাও মাথা গুঁজে ঠাঁই করে নিয়েছে জীর্ণশীর্ণ কুঁড়েঘর গুলো কারণ তাদেরও আর সুযোগ নেই অবাধ বিচরণের।  

দিন যতো যায় মৃতের সংখ্যাটা ততই বাড়ছে।  দেশের অর্থনীতি এতো শক্তিশালী নয় যে, দেশের সকল জনগণের দরজায় দরজায় রীতিমতো তৈরীকৃত  খাবার পৌঁছে দিবে যাঁর ফলে মানুষ ঘর হতে আর বের হবেনা সারাক্ষণ টিভি দেখবে, মোবাইলে ব্যস্ত থাকবে আর ধর্মপ্রাণ লোকেরা যাঁর যাঁর ধর্মপালন ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়বে। 

 এই সময়ের জন্য ফেইসবুকই হাজার হাজার তরুণদের সময় পার করার উত্তম মাধ্যম বলা যায় তা নাহলে একজন আরেকজনের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হতো।  

কেননা এই স্মার্টফোন-ফেইসবুক এমন যে কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় নেই না এমনকি আত্মীয় বাড়িতে গেলেও প্রথম সাক্ষাৎ এর পর দেখা মেলে নাস্তা কিংবা খাবার টেবিলে মাঝখানে কেউ কারো সাথে কোনো কথা নেই, কে কেমন আছে সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করবে সেটারও সুযোগ নেই থাকলেও মুখে কথা হয় কিন্তু চোখ-হাত থাকে মোবাইলে।  

যদিও বা এই সময়  আপাতত বেড়ানো থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সাময়িকের জন্য কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটাই।  পরিস্থিতি রাস্তায় বের হতে বাধ্য করে তবুও নিজদেহকে পৃথিবীর বুকে সক্রিয় রাখতে সাময়িক অস্বস্তিকে মিথ্যায় স্বস্তিতে রূপ ধারণ করায় এই মহামারীকে আমরা সম্মুখ যুদ্ধ না বললেও সেটাকে এক একটি নিঃশ্বাস নেওয়ায় যুদ্ধ ভাবতে পারিনা? 

যেমন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রোগীদের প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় চব্বিশ হাজার টাকা গুনতে হয় যার হিসাব করলে ঘন্টায় এক একটি নিঃশ্বাসের মূল্য টাকা দিয়ে নিতে হয় যা অতীতে আল্লাহর প্রতি একটুও কি এই নিঃশ্বাসের শুকরিয়া আদায় করেছি? মহান সবাইকে সুস্থ রাখুন-ঘরে থাকুন-যত্রতত্র চলাফেরা এড়িয়ে চলুন। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 
 


keya