১:০৭ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার | | ২৯ শা'বান ১৪৪২




করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

৩১ মার্চ ২০২১, ০৬:০২ পিএম |


এসএনএন২৪.কমঃ করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।  ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৬%, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ। 

২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ—এমন ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। 

বুধবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের “সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০২১: সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেটস’ প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

এতে অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার করোনার টিকা পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। 

সংস্থাটি জানায়, সঠিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি পালন, মূলত রপ্তানি পণ্য পোশাক খাত ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।  শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ।  তবে একই সময়ে ভারত ও মালদ্বীপ বাংলাদেশের থেকে অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। 

বাংলাদেশ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ।  তবে সব সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। 

বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর গতি বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক, যা একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন। 

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে আগফানিস্তান ৪ দশমিক ৪, শ্রীলঙ্কা ২, ভুটান ৪ দশমিক ৫, নেপাল ৫ দশমিক ১, পাকিস্তান ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।  তবে একই সময়ে ভারত ৬ দশমিক ৫ ও মালদ্বীপ ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। 

গত জানুয়ারিতে ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস: জানুয়ারি ২০২১’ প্রতিবেদনে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জের ধরে চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেল সংস্থাটি। 

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি পেয়েছে।  তবে এখনো অর্থনীতিতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে।  এ ক্ষেত্রে করোনা মহামারি পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং সরকারকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়, তা অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। 

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার কারণে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাধাগ্রস্ত হতে পারে।  তবে, টিকার দ্রুত প্রাপ্তি ও পর্যাপ্ততা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। 

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় আসায় বিশ্বব্যাংক আগের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে পরিবর্তন করেছে।  তবে, প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে বর্তমান করোনার টিকাদান কর্মসূচির গতি-প্রকৃতি, কত দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়, তার ওপর। 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার বলেন, করোনার কারণে বহু লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।  অনেকে কাজ হারিয়েছে।  দক্ষিণ এশিয়ায় এরই মধ্যে অর্থনৈতিক পুনরূদ্ধার ভালোভাবে শুরু হলেও করোনা এখনো পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।  তাই পুনরুদ্ধার এখনো অনিশ্চিত।  এ ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ হলো টিকাদান ও পুনরুদ্ধারে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা। 

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকে টিকা কেনার অর্থ দিচ্ছে।  বিশ্বব্যাংক দক্ষিণ এশিয়ার সব মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে চায়।  বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যানস টিমার বলেন, করোনার টিকায় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, টিকা দেওয়ার ফলে তার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সুফল মিলেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। 

তবে এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা এখনো সীমিত।  এ অঞ্চলের জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়।  তাই সীমিত সম্পদ দিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের। 

বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে বলেছে, সার্বিকভাবে ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং পরের বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। 

এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারতে ১০ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।  পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা পরের বছর ২ শতাংশে উন্নীত হবে।  মালদ্বীপের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে, যা পরের বছর হতে পারে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। 

এছাড়া নেপালে ২০২০-২১ সালে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, পরের অর্থবছর ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।  আফগানিস্তান চলতি বছর ১ শতাংশ, পরের বছর ২ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় চলতি বছর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পরের বছর ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।  এশিয়ার দেশ ভুটানের চলতি অর্থবছর জিডিপি ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে।