১:০০ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




করোনা যুদ্ধের সাহসী নারী সৈনিক ফটিকছড়ির কন্যা ইউএনও মুনতাসির জাহান

০৪ জুন ২০২০, ১০:৫৮ এএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী, চট্টগ্রাম: মহামারি মোকাবেলায় নারী-নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সাফল্য আরও লক্ষণীয়।  এমন দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা প্রথম থেকেই বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। 

প্রাথমিক ও বৈজ্ঞানিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে তারা মহামারিটি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে এনে জনসাধারণের আস্থাযুক্ত হয়েছেন। 

বিশ্বের নারী সরকারপ্রধানরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কেন সফল হয়েছেন? পরিসংখ্যানে দেখা গেছে নারীরা যখন ড্রাইভ করেন, তারা খুবই সতর্ক থাকেন।  এই অসমতার পৃথিবীতে কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, নারীদের ঠাণ্ডা মাথার সর্তকতা এবং সূক্ষ্ম চিন্তার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে পাওয়া আজ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ব নারী নেতাদের সফলতার ক্ষেত্র থেকে খুবই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, বিশ্ব পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ প্রতিটি ক্ষেত্রে কতটা জরুরি। 

শুধু তাই নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অসমতা এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া লিঙ্গবৈষম্য দেখিয়ে দেয়, আজ এই বৈশ্বিক জরুরি সংকট মোকাবেলায় আমরা কতটা পিছিয়ে। 

যখন আমরা নারী-পুরুষের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলি, তখন এই নারীদের দিকে তাকিয়ে দেখি না তারা কিভাবে মোকাবেলা করেছেন করোনা দুর্যোগের এই কঠিন পরিস্থিতি? অবশ্যই বিশ্বে আরও বেশি নারী নেতা এবং রাজনীতির সর্বস্তরে নারীর সমান প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজন- এটি যে কোনো জাতিকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

বলা হয়ে থাকে, একটি পরিবারকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য যেমন বাবা এবং মা- দুজনের ভূমিকাই অপরিসীম, তেমনি একটা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের নেতৃত্ব অনস্বীকার্য। 

প্রমাণ মিলেছে এবার নারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে।  নারী মহামারিটি সামলানোর ক্ষেত্রে একটি দুর্দান্ত কাজ করছেন।  করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নেতাদের অবদান সত্যি প্রশংসনীয়। 



এই ভয়াবহ মহামারী করোনা পরিস্থিতে নিজের পরিবার যখন নিজের সাহায্য আসছেনা, সন্তান তার বাবা মার খবর নিচ্ছে না, বৃদ্ধ মা সারা রাত করোনায় আক্রান্ত ছেলের মৃত দেহের পাশে বসে লাশ পাহাড়া দিয়েছে কিন্তু ছেলের লাশের দাফনের জন্য কেউ এগিয়ে আসে নাই।  সারা বিশ্বের ন্যায় এমন পরিস্থিতে বাংলাদেশ যখন দিশেহারা আর মানুষ যখন আতংকে কর্মহীন ও অসহায় হয়ে গৃহবন্দী তখন ফটিকছড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাসুদ ও সফল জননী রাজিয়া মাসুদের কন্যা লক্ষীপুরের রামগঞ্জ এর এইনারী  ইউএনও নিজেকে উজার করে মানুষের জন্য লড়ছেন।  নাম মুনতাসির জাহান । 

এ যোদ্ধারা দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণের গত ৬৭ দিনে রামগঞ্জ বাসীকে ভালো রাখার জন্য যে অর্জন উপহার দিয়েছেন, গত ৬৭ দিনে তারা বিভিন্ন প্রান্ত পাড়ি দিয়ে কঠোর পরিশ্রমে মানবতা রক্ষার লড়াইয়ে বিভিন্ন অনিয়মের, দ্রব্য মূল্যের দাম বেশি রাখা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সহ নানা অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মামলা ও জরিমানা আদায় করেছেন। 

মুনতাসির জাহান প্রতিদিন গাড়িতে ত্রাণ নিয়ে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেছেন, আর অসহায় মানুষকে পেলেই দিয়েছেন ত্রাণ। 
নিজ উদ্যোগে রাস্তার পাগলদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি ডিউটি ও অন্যান্য সময় অসহায় এবং দুস্থদের মাঝে দিয়েছেন ত্রাণ। 
কখনও সচেতনতার বার্তা, কখনও ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে চলছেন প্রতিনিয়ত।  জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও তার এ মানবিকতা নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের।  যিনি একজন নারী হয়েও “ভয়কে জয় করেছেন সাহসিকতা ও মানবতার কোমল হাতে”।  ফলে করোনাকালে রামগঞ্জ শহরে মুনতাসির জাহান এখন একটি “মানবিক ও সাহসী নাম”। 


মুনতাসির জাহান জানান, “মানুষ মানুষের জন্য।  এই ভয়াবহ দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব।  লোক দেখানো কিংবা বড় হবার উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ”
তিনি বলেন, “সরকারের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান সকল মানুষের উচিত এ মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।  তাহলে দেশের কোন অসহায় মানুষ অনাহারে থাকবে না । ”
তিনি আরও বলেন, “দেশ ও বিদেশ থেকে অনেকেই তার এরূপ কমর্কান্ডের প্রশংসা করেছেন ও প্রেরণা যোগাচ্ছেন। ” এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তিনি।