১১:৪৬ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

কোরবানির লবণ এখনো জাহাজে

০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৪০ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কমঃ লবণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোরবানির জন্য ভারত থেকে আমদানি করা লবণ এখন জাহাজে এমনকি ভারতেও।  এলসি সম্পূর্ণ হলেও লবণ আসতে আসতে আরো বেশ কয়েকদিন লেগে যাবে।  ফলে ঠিক যে সময়টায় লবণ বেশি দরকার ঠিক সে সময়টায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে লবণের চরম সংকট।  এতে ৭শ টাকার লবণ সপ্তাহ না ঘুরতে ১৪শ টাকায় ঠেকেছে। 

এর ফলে সরকারের নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্যানারির মালিকরা।  একটি বড় চামড়া সংরক্ষণে ১৫-২০ কেজি লবণ লাগে।  তাই চামড়ার মূল্য কম হাঁকতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।  কিন্তু মৌসুমি বিক্রেতারা কম দামেও চামড়া বিক্রি করছেন না।  ফলে হাজারীবাগ ও পোস্তায় বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ ছাড়াই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চামড়া।  এতে ৩৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা করছেন কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা।  গেলো বছরও ২০ থেকে ২২ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছিল। 

বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  অথচ ২ থেকে ১ মাস আগেও এসব লবণ বস্তা প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মোরা ও বৃষ্টির কারণে তখন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়।  দেশে লবণের চাহিদা ১৫ লাখ ৭৬ হাজার টনের বিপরীতে এবার দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টন।  ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার টন।  তাই দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম লবণ উৎপাদিত হওয়া এবং লবণের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।  গত ২৪ জুলাই এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে মন্ত্রণালয়।  সরকার নির্ধারিত আমদানিকারকরা এ লবণ আমদানি করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ লাখ টন লবণের বিপরীতে ঈদের ক’দিন আগে ভারত থেকে কয়েক হাজার টন লবণ এসেছে।  লবণসহ জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরেই রয়েছে।  বাকিগুলো এ মাসের ভেতর দেশে এসে পৌঁছানোর কথা।  ফলে আমদানিকৃত লবণ ঈদের আগে দেশে না পৌঁছায় বেশ ঘাটতি তৈরি হয়, তাই লবণের দাম এখন প্রায় দ্বিগুণ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের লবণ ব্যবসায়ী নেতা আরটিভি অনলাইনকে জানান, ‘লবণের মৌসুমে বৃষ্টি আর মোরা ঝড়ে লবণ উৎপাদন কম হয়।  এতে আড়াই থেকে তিন লাখ টন ঘাটতি রয়েছে।  ফলে লবণ চাষীদের কাছ থেকে বেশি দামে লবণ কেনায় বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।  কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৫ লাখ টনের লবণ আমদানির সিদ্ধান্তটি বেশ দেরিতে নিয়েছে।  ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে থেকে এলসি হয়ে শিপমেন্ট হতে ৪০ দিন লেগে যায়।  তাই ঈদের আগে বাজার ধরতে পারেনি আমদানিকৃত এ লবণ।  যদি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে নেয়া যেত তাহলে লবণের দাম ৭শ টাকায় থাকতো। ’

সঙ্কটের কারণে অনেক চামড়াতেই লবণ লাগানো নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজধানীর পোস্তা ও হাজারীবাগের চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি বড় চামড়া সংরক্ষণে ১৫-২০ কেজি লবণ লাগে।  তবে গড়ে চামড়া প্রতি ১২-১৫ কেজি লবণ কোরবানির সময় লেগে থাকে।  কারণ কোরবানির গরুর চামড়ায় অতিরিক্ত চর্বি ও মাংস থাকে।  সেই হিসাবে ৭৪ কেজির এক বস্তা লবণে চার থেকে ছয়টি চামড়া সংরক্ষণ করা যায়।  ২০১৬ সালে লবণ সংকটের কথা তুলে ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা লবণের দর ৬০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা করে ফেলে।  এতে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে লবণ কিনতে হয় চামড়া ব্যবসায়ীদের। 

তিনি আরো বলেন, সপ্তাহ-দুই আগেও যে লবণের বস্তা ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হতো, বর্তমানে ঢাকায় সেটা (৭৪ কেজির বস্তা) ১৪০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।  ব্যবসায়ীরা লবণ আমদানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে।  সরকার যখন উদ্যোগ নিয়েছিল তখন এলসি করা হলে অনেক আগেই দেশে লবণ পৌঁছে যেত।  কিন্তু আমদানিকারকরা কোরবানিতে বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য আমদানি বিলম্ব করেছে।  এখন মিল মালিকদের কাছে মজুদকৃত লবণ বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। 

পোস্তায় অনেক ব্যবসায়ীরা বলেন, এবার অনেক ট্যানারি বন্ধ আছে।  তার ওপর ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের অনেক টাকাই বকেয়া পড়ে আছে।  এবার ব্যাংক থেকেও অনেক ব্যবসায়ী ঋণ পায়নি ফলে অর্থ সংকটে পড়েছেন তারা।  ধারদেনা করে চামড়া কিনলেও লবণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।  ট্যানারির বেশির ভাগ সাভারে স্থানান্তর হলেও এখনো চামড়া কেনাবেচার একটা বড় অংশ আছে হাজারীবাগেই।  এবার হাজারীবাগে চামড়া বিক্রি হবে না এমন গুজব থাকায়ও তুলনামূলক কম চামড়া এসেছে এখানে। 

তারা আরো বলেন, এবার ৩০ শতাংশ কাঁচা চামড়া কম হয়েছে।  তবে যোগান কম থাকলেও দাম বাড়েনি চামড়ার।  নানান অজুহাতে ন্যায্য দাম থেকে এবারো বঞ্চিত হয়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের চামড়া বিক্রেতারা।  প্রতিবছর কোরবানি ঈদে এক কোটি পিসের মতো চামড়া কেনাবেচা হলেও এবার হবে ৬০ থেকে ৭০ লাখ পিস। 

Abu-Dhabi


21-February

keya