১০:৪৭ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০


কারিমার স্বপ্ন পুরনের দায়িত্ব নিলেন রীনা তালুকদার

০৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০২ পিএম | সাদি


বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের হতদরিদ্র অদম্য মেধাবী কারিমা খাতুনের স্বপ্ন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, কিন্তু সীমাহীন দারিদ্রতা তার সে স্বপ্নে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়।  হা-পিত্তেষ করতে থাকে কারিমা ও তার পরিবার,এমন সময়ে কারিমার বিষয় টি বেশ কিছু গনমাধ্যম কর্মির নজরে পড়লে ওই গনমাধ্যম কর্মিরা খোজ-খবর নিয়ে মেধাবি কারিমার ঝরে পড়া স্বপ্নের  কথা তুলে ধরে তাদেও  গনমাধ্যমে।  গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কারিমার বাড়ীতে ছুটে যান ।   কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদার সব কিছুশুনে পড়ালেখার দায়িত নিলেন । 

শুক্রবার রাতে তিনি এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবারের হাতে প্রাথমিক খরচের অর্থ তুলে দেন।  একই সাথে তিনি প্রথম শারির একটি বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং সেন্টারে তার অধ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।  রীনা তালুকদার বলেন, ‘ বিভিন্ন গন মাধ্যমে সংবাদটি দেখার পর খোজ খবর নিয়ে মেয়েটির সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিজেকে আর অটকে রাখতে পারিনি।  আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য এই হতদরিদ্র অদম্য মেধাবী মেয়েটির জীবনের আশা পুরণ হবে না, তা হতে পারে না।  তাই তার পাশে দাড়াতে বাধ্য হয়েছি। ’

এসময় তিনি কারিমা খাতুনের সব ধরনের সহায়তা দেবেন বলে জানান।   কারিমার মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অনেকদিন ধরে অসুস্থ্য।  দু‘টি বাসায় কাজ করে মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা পাই।  এই টাকা দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে আমাদের সংসার চলে।  মেয়ে নিজের ইচ্ছায় ভাল ফলাফল করেছে।  কিন্তু এই ভাল ফলাফল আমাদের খুশির বদলে কাঁদিয়েছে।  রীনা তালুদারকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এভাবে সমাজের বড়লোকেরা যদি অসহায়দের পাশে দাড়ায় তাহলে আমাদের মতো লোকদের আর দুঃখ থাকে না। রীনা তালুকদার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার পর কারিমা খাতুন জানায়, ‘ভাল ফলাফলের পরও পারিবারিক অসচ্ছলতার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো না এমনটা ভেবে নিজের কাছে খুবই খারাপ লাগতো।  মনে করতাম আমরা গরিব আমাদের ভাল প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে নেই।  কিন্তু রীনা আন্টির সহায়তায় আমি নতুন করে স্বপ্ন দেখছি।  সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন বড় হয়ে এভাবে অসহায়ের পাশে দাড়াতে পারি। 

বাগেরহাট বহুমুখি কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক কুলছুম বেগম বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেদিয়ে মেয়েটি লেখা-পড়া চালিয়ে এপযন্ত এসেছে।  ওকে একদিন ওর মায়ের সাথে ইট ভাঙ্গতে দেখে আমার চোখে পানি এসে যায়।  মেধাবী এই মেয়েটির পাশে যিনি দাড়িয়েছেন তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। 

প্রসংগত, পরের বাড়িতে ইট ভেঙ্গে অসুস্থ্য পিতার মুখে খাবার তুলে দেওয়া, দিনের পর দিন না খেয়ে একই পোশাকে হাটু পানি পার হয়ে স্কুল ও কলেজে যাওয়া, একটু কেরোশিন তেলের অভাবে রাতে পড়তে না পারা- এসব কোন কিছুই দমাতে পারেনি মেধাবী কারিমাকে।  এবছর অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরিক্ষায় যশোর বোর্ডের অধিনে সে বাগেরহাট বহুমুখি কলেজিয়েট স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। 

এর আগেও একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।  কারিমা খাতুন বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার ( কাজীর বস্তি) শেখ আইয়ুব আলীর মেয়ে।  তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বিসিএস পরিক্ষা দিয়ে উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হওয়া।  অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছিল। 


keya