৪:৩২ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে উৎসব

০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৭ এএম | নকিব


এসএনএন২৪কম : কলকাতায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এক চলচ্চিত্র উৎসব।  শুক্রবার বিকেলে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। 

সংস্কৃতিকেন্দ্র নন্দনে চার দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ২৪টি চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও তথ্যচিত্র।  পাশাপাশি চলছে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী।  উৎসব চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।  ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, অভিনেতা প্রসেনজিৎ, কোয়েল মল্লিক, গার্গি রায় চৌধুরী, বাংলাদেশের নায়িকা পূজা চেরি প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু ও প্রসেনজিৎ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।  বাংলাদেশের নায়িকা পূজা পুষ্পস্তবক তুলে দেন প্রসেনজিৎ, কোয়েল মল্লিক ও গার্গির হাতে।  হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের রাস্তা প্রস্তুত করা হচ্ছে।  নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।  আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পকে উন্নত করতে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মিত হলে দুই দেশের চলচ্চিত্রশিল্প আরও উন্নত হবে।  কলকাতার মতো আমরা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহরে ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব করারও প্রস্তুতি নিয়েছি।  এ ছাড়া ভারতের আরও কয়েকটি স্থানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র উৎসব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে বিশ্বে বাংলা ভাষার এত কদর হতো না।  বিশ্বের ষষ্ঠ ভাষার স্বীকৃতিও পেত না।  কারণ, বাংলাদেশই বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ’ ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেন, ‘পৃথিবীর ষষ্ঠ ভাষা বাংলা হলেও সেভাবে বাংলা ভাষার সাহিত্য, চলচ্চিত্র এগোয়নি।  আমাদের এই ভাবনা নিয়ে এগোতে হবে।  উন্নত করতে হবে চলচ্চিত্রশিল্পকে। ’
উৎসবে যে ছবিগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গেরিলা, চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, অনিল বাগচীর একদিন, আমার বন্ধু রাশেদ, ৭১-এর মা জননী, কৃষ্ণপক্ষ, গাড়িওয়ালা, মেঘমল্লার, আয়নাবাজি, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ, জন্মসাথী, মাটির প্রজার দেশে, শোভনের স্বাধীনতা, একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি, লাল সবুজের সুর, সুতপার ঠিকানা, মৃত্তিকা মায়া, ঘাসফুল, জালালের গল্প, পুত্র ও রীনা ব্রাউন। 

উৎসব চলছে নন্দনের দুটি প্রেক্ষাগৃহ এবং নজরুলতীর্থ মিলনায়তনে।  মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে নন্দন গ্যালারি-৪ এবং নজরুলতীর্থের আর্ট গ্যালারিতে।