৪:৩৫ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


কলেজের প্রভাষকের বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ

১৭ মে ২০১৮, ০৭:০৬ পিএম | সাদি


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে কলেজের প্রভাষক সামছুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারী রাস্তার ২০ হাজার টাকা মূল্যের মেহগুনী গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হস্তক্ষেপে কাটা গাছটি আটক করা হয়। 
জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে সান্তাহার মহিলা কলেজের প্রভাষক সামছুল আলমের নির্দেশে গ্রামের কাদোয়া থেকে মঙ্গলপুর রাস্তার পার্শ্বে ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের ২০ বছর বয়সী মেহগুণী গাছ কাটা হয়।  রাস্তার গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক কাটা গাছটি আটক করে। 

এলাকার সামাদের ছেলে দেলোয়র হোসেন জানান, এই রাস্তার পাশের জমি প্রভাষক সামছুল আলমের হওয়ার কারনে বেশ কয়েকটি মেহগুণী গাছ কাটার জন্য মিস্ত্রিরা কাজ শুরু করলে এলাকাবাসীরা বাধা দিলে একটি গাছ কাটার পর গাছটি রেখে তাদের বাগানের গাছ কাটতে চলে যায়।  এলাকাবাসীরা বাধা না দিলে সবগুলো গাছ কেটে ফেরতো তারা। 
প্রভাষক সামছুল আলমের বাবা ফজলুর রহমান জানান, রাস্তার ধারের জমি আমাদের এজন্যই গাছ কাটা হয়েছে।  এলাকাবাসীরা বাধা দেওয়ায় গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। 

ফজলুর রহমানের ছেলে প্রভাষক সামছুল আলম জানান, ওই রাস্তার ধারের জমিতে গাছগুলো আমরা রোপন করেছিলাম।  এই জন্য গাছ কাটার মিস্ত্রি লাগানো হয়েছে।  এলাকাবাসীরা বাধা দেওয়ায় গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, রাস্তার গাছ কাটা আইনসম্মত কিনা এটা তিনি জানে না। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সকালে লোকমূখে খবর পাই যে সরকারী রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে।  তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ১৬ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি মেহগুণী গাছ কাটা হয়েছে।  কাটা ওই গাছটি আটক করে বাঁকী গাছগুলো কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। 

তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, টেন্ডার ছাড়া সরকারী কোন গাছ কাটার নিয়ম নেই।  রাস্তার গাছ যেন কেহ না কাটে এজন্য ইউনিয়নে মাইকিং করে প্রচার করা আছে।  তারপরও শুনেছি প্রভাষক সামছুল আলম গাছ কেটেছে বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসতানজিদা পারভিন জানান, সরকারী রাস্তার গাছ কাটা হয়েছে এব্যাপারে আমাকে কেউ জানায়নি।  রাস্তার গাছ কাটা কোনভাবেই আইনসম্মত নয়।  আমি চেয়ারম্যানকে বলছি।  সরকারী গাছ যদি কেহ কাটা হয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।