৭:০৫ এএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | | ৫ রজব ১৪৪১




কলেজ ছাত্রকে মাথা ফাটানোর ২দিনপর উল্টো বাদীকে চুরির মামলা দিল আসামীর বাবা

২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:২৬ এএম | নকিব


প্রদীপ শীল, রাউজান: ছেলেকে পিটিয়ে মাথা ফাটানোর ঘটনায় বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দেয়ার দুইদিন পর টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে থানায় মামলা করেছে আসামীর বাবা। 

চট্টগ্রামের রাউজানে এ ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শান্ত রায় (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রকে মাথা ফাটিয়ে দেন রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আশীষ কুমার দে’র ছেলে সনজয় কুমার দে (৩৭)।  এই ঘটনায় গত ৯ জানুয়ারী রাউজান থানায় মামলা (মামলা নং-৪, তাং-০৯-১১-২০২০ইং) রুজু করেন শান্ত রায়ের বাবা প্রদীপ কুমার রায়। 

তিনি মামলা দেয়ার দুইদিন পর ১১ জানুয়ারী আসামী সনজয়ের বাবা আশীষ কুমার দে বাদি হয়ে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পাল্টা মামলা (মামলা নং-৫, তাং-১১-০১-২০২০ইং) করেন। 

এই মামলায় আহত শান্ত রায় (২০) ও তাঁর বাবা প্রদীপ কুমার দে (৪৮) আসামী করা হয়।  বুধবার (২২ জানুয়ারী)  দুপুরে মুন্সিরঘাটায় শান্ত রায়ের বাবা প্রদীপ কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার আপন ভাতিজা সনজয় কুমার দে দুর্গাপূজায় মাদক সেবন করে মাতলামিসহ নানা অপকর্ম করে।  এ বিষয়ে আমি তার বাবা-মা ও ভাইকে অবহিত করেছিলাম।  বিষয়টি নিয়ে আমার ভাতিজা সনজয় কুমার দে ক্ষিপ্ত ছিল।  গত ৩০ ডিসেম্বর আমাদের বাড়ির বাৎসরিক অনুষ্ঠান থেকে তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে দরজা বন্ধ করে বেধরক মরাধর করে। 

এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে মারাত্মক যখম হয়।  তার শোর চিৎকারে অনুষ্ঠানের লোকজন এগিয়ে গেলে দরজা খোলার পর আমর ছেলে সনজয়ের বসতঘর থেকে দৌড়ে আমার ঘরে গেলে সেখানে গিয়েও মারধর করে।  একপর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।  আমর ছেলেকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে গেলে সনজয় পালিয়ে যায়। 

এলাকার লোকজন ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান।  ৯৯৯ এ কল দেয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  পাঠান।   আমার ছেলের অবস্থা অশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।  আমরা আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে পারিনি।  পরে গত ৯ জানুয়ারী সনজয়কে আসামী করে রাউজান থানায় একটি মামলা (মামলা নং- ৪, তাং-০৯-০১-২০২০ইং) রুজু করি।  আমরা মামলা করার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ জানুয়ারী আমার ছেলে শান্ত রায় ও আমাকে আসামী করে এজাহার দিয়েছে সনজয়ের বাবা আশীষ কুমার দে। 

তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন আমার ছেলে তাদের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ৩৩ হাজার টাকা লুট করেছে।  লুটকৃত টাকা ফেরত নেয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে এতে সনজয় আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়।  আমার ছেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে টাকা চুরির অপবাদে পাল্টা মামলা দিয়েছে। 

এই প্রসঙ্গে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেফায়েত উল্লাহ বলেন, তারা আপন চাচাতো জেঠাতো ভাই।  একটি অনুষ্ঠানে সনজয়ের কাছ থেকে ৩ হাজার বা সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।  এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সনজয় শান্তরায়কে মারধর করে।  এটা সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু শান্ত রায়ের বাবা মেনে নেয়নি।  পরে উনার মামলা নিয়েছিলাম।  এসময় সনজয়ের বাবা দাবি করেন তার ছেলের কাছ থেকে টাকা লুট করেছে।  পরে সনজয়ের বাবাও মামলা করেন।  যেহেতু শান্ত রায়ের বাবা ও সনজয়ের বাবা আপন ভাই সেহেতু আমরা সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম।  শান্ত রায়ের বাবা মেনে না নেয়ায় পাল্টাপাল্টি মামলা দিয়েছে।  শান্ত রায়ের উপর হামলার আসামী সনজয় কুমার দে  বলেন, আমি রাগের মাথা বেশি মারধর করেছি ।  শান্ত প্রায় সময় টাকা চুরি করতো। 

যার কারণে মাথা ঠিক রাখতে পারি নাই।  ঘটনার পর বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেছি।  তার পরও তারা থানায় মামলা করেছে।  আমিও একটা চুরির মামলা করি।