৮:৪৯ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৯, বুধবার | | ২০ রজব ১৪৪০




কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় লন্ডভন্ড, পরীক্ষা চলছে খোলা আকাশে!

৩০ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:৫৩ এএম | সাদি


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট: কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় লন্ডভন্ড হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ইশোরকোল পশ্চিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে পরির্দশন কালে দেখা যায় খোলা আকাশের নিচে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিতে দেখো গেছে বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের।  শিক্ষার্থীরা জানায়, কয়েক দিন ধরে চলছে তাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা।  বৃহস্পতিবারের পরীক্ষাটিও কক্ষের ভিতরে হয়েছে।  কিন্তু শুক্রবার রাতের বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তাদের টিনসেড ঘরটি উপড়ে পড়ে যায়।  ফলে শ্রেনী কক্ষে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হলো না। 

ঝড়ে বিদ্যালয় ভাঙ্গলেও মেধা ভেঙ্গে যায় নি শিক্ষার্থীদের।  তাই মাঠের গাছতলায় খোলা আকাশের নিচেই প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।  বিদ্যালয়ের টিনের ঘর কাল বৈশাখী ঝড়ের কবলে উড়ে গেছে।  অফিস কক্ষ রয়েছে অক্ষত।  এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের আসবাব পত্র।  নিরুপায় হয়ে খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ছয় নং ওয়ার্ডের ইশোরকোল এলাকায় অবস্থিত " ইশোরকোল পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চিত্র ।  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে  বৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের ঘর সম্পূর্ণ উড়ে গিয়ে মাটিতে থুবড়ে পড়ে আছে। 

বর্তমানে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে।  তাই এক প্রকার নিরুপায় হয়েই খোলা আকাশের নিচে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।  তাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি ঘরটি'র মেরামত করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।  এদিকে গেল রাতের ঝড়ের কারণে বিদ্যালয়ের কক্ষে ছাত্রছাত্রীদের বসার উপায় নেই।  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। 

কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বলেন, খবরটি তিনি মোবাইল ফোনে জানতে পেরেছে।  রোববার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসবেন ।  বিদ্যালয়টি যাতে অতিদ্রুত মেরামত করা হয় সেজন্য প্রশাসনের নিকট সুপারিশ করা হবে।  যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের আর খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা দিতে না হয়। 


keya