৮:৩৫ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




কালের সাক্ষী তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মাসুম


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট : দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট।  এ জেলায় রয়েছে কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন।  এসব নিদর্শনের মধ্যে একটি হলো লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডারে জমিদার বাড়ীটি আজও  কালের সাক্ষী হয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।  জানা যায়, তুষভান্ডার জমিদার বংশের গোড়াপত্তন ঘটে ১৬৩৪ সালে।  এই বংশের পূর্বপুরুষ মুরারিদেব ঘোষাল ভট্টাচার্য ২৪পরগনা জেলার অধিবাসী। 

মুরারিদেব ‘রসিক রায় বিগ্রহ’ নিয়ে কোচ মহারাজা প্রাণ নারায়নের রাজত্বকালে কোচবিহারে আগমন করেন এবং মহারাণী কর্তৃক একটি ‘উপঞ্চৌকি তালুক’ প্রাপ্ত হয়ে উত্তর ঘনেশ্যাম গ্রামে বসতি স্থাপন
করেন এবং রসিক রায় বিগ্রহের পুজা শুরু করেন।  উপঞ্চৌকি হল সেই সময়ে রঙ্গপুর অঞ্চলে প্রচলিত একটি প্রথা যা’দ্বারা মহারাজাগন হিন্দু এবং মুসলিম উভয় ধর্মীয় কার্যাদী পালনের জন্য প্রজাদেরকে একটি করে তালুক(ভূখন্ড) দান করতেন।  এভাবেই মুরারিদেব এ অঞ্চলের ছোটখাতা, বামুনিয়া ও শেখ সুন্দর মৌজা লাভ করেন।  প্রতিষ্ঠা লাভ করে তুষভান্ডার জমিদারী।  মুরারিদেব ব্রাহ্মণ ছিলেন জন্য শুদ্র কোচবিহার রাজার দান গ্রহনে আপত্তি জানিয়ে খাজনা গ্রহনের জন্য মহারাণীকে অনুরোধ জানান।  মহারানীও ব্রাহ্মণের কাছ থেকে খাজনা নেওয়ার পরিবর্তে ‘তুষ’ (ধানের কুড়া) গ্রহনে সম্মতি জানান।  এই তুষ দিয়ে কোচবিহার মহারাণী রাজবাড়ীতে যজ্ঞাদি ক্রিয়া সম্পাদন করতেন।  মুরারিদেব কর্তৃক কোচ রাজাকে তুষ প্রদানের জন্য এগুলো সংরক্ষন করা হত বর্তমান জমিদার বাড়ীর পূর্ব দিকে।  খাজনা প্রদানের জন্য সংরক্ষিত এই তুষের স্তুপ থেকেই এলাকাটির নাম তুষভান্ডার হয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।  তুষভান্ডার নামের পিছনে আরও কিছু অসমর্থিত কিংবদন্তী থাকলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য হয়নি।  স্তুপাকারে সংরক্ষিত এই তুষের ঢিপিটি আজ পর্যন্ত ‘তুষের ঢিপি’ নামেই পরিচিত।  তবে কোচবিহারের ইতিহাস লেখক খান বাহাদুর চৌধুরী আমানত উল্লাহ সীতারাম রায় নামক এক ব্যাক্তিকে তুষভান্ডার জমিদারীর আদিপুরুষ বলে উল্লেখ করেছেন।  তার মতে কোচ রাজার কর্মচারী সীতারাম রায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে কার্যিরহাট পরগনার এক অষ্টমাংশ জমিদারী লাভ করেন।  এছাড়া সীতারাম রায় সম্পর্কে আর কিছু জানা যায়নি কিংবা তুষভান্ডারের জমিদার বংশ তালিকায়ও তার নাম পাওয়া যায় না। 




keya