৬:০৮ এএম, ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার | | ১১ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে আমলকি!

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৪৬ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : আমলকি।  ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল। এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। 

বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে।  আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়। 

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’।  পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।  আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। 

চলুন জেনে নিই আমলকি খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে-

১. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে।  এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে। 

২. আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।  এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ।  চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।  আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী।  এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

৩. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন।  এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে। 

৪. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে।  খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে। 

৫. প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে।  এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। 

৬. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।  এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।  এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে। 

৭. প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।  আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়।  রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন। 

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।  কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী।  ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। 

৯. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।  এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে।  আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।  শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। 

১০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।  কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।