১১:০২ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




কুড়িগ্রামে উলিপুর খাদ্য পরিদর্শক ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ

০২ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৪ এএম | নকিব


হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফজলুল হককে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ। 

সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়।  পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উলিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু খবর পেয়ে তাকে তালামুক্ত করেন।  এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

খাদ্য বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, উলিপুর উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৬৩৬জন কৃষকের বিপরীতে ২১৮ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের জন্য লটারী হয়।  গত সোমবার (২৪জুন) ২য় পর্যায়ে ৩১৯ মে.টন ধানের বিপরীতে ৬৩৮ জন কৃষককে লটারীর মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়। 

আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকের তালিকা প্রকাশ না করেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে কৃষি কার্ডসহ আইডি কার্ড উত্তোলনের অভিযোগে সোমবার দুপুরে উলিপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফজলুল হককে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে উলিপুর থানা আওয়ামীলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল সরদার বাবু’র সহযোগী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে উলিপুর থানা আওয়ামীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল সরদার বাবু জানান, খাদ্য কর্মকর্তা ফজলুল হক লটারীর ৮দিন অতিবাহিত হবার পরও নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ করেননি।  এদিকে গত ৪ দিন ধরে সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, বুড়াবুড়ি ও হাতিয়া ইউনিয়ন থেকে গোপনে তার লোকজন দিয়ে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিকার্ড ও আইডি কার্ড উত্তোলনের অভিযোগ পাই।  এ নিয়ে কৃষকরা ক্ষুব্ধ ছিল।  পরে কে বা কারা তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।  ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জানিয়ে বলেন আশরাফুলের নামে মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে।  কৃষকরাই এ কাজ করে থাকতে পারে। 

এবারে বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় ৫০০ কেজি ধানের বরাদ্দ নিয়ে কৃষদের অনাগ্রহের সুযোগে কয়েকটি সিন্ডিকেট মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে তাদের কৃষি কার্ড ও আইডি কার্ড সংগ্রহ করেন।  একটি সূত্র জানায়, ২য় দফায় লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকের তালিকা প্রকাশ না করলেও একটি সিন্ডিকেটের কাছে তা প্রকাশ করায় বঞ্চিত সিন্ডিকেটটি বিক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে খাদ্য পরিদর্শকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।  

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফজলুল হক বলেন, তালিকা তৈরি করেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক।  এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।  

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম বলেন, বিক্ষুব্ধরা তালা লাগানোর পর আবার খুলে দিয়েছে।  তবে তারা কৃষক কিনা তাদের আমি চিনি না।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।  

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু জানান, ঘটনাটি শুনে ওই অফিসে গিয়ে তালা খুলে দেয়া হয়েছে। 


keya