১২:৫৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০




খোকন-নাসির বাদ? আতিক আবার প্রার্থী

৩০ জুন ২০১৯, ০৪:৩৫ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : আগামী ডিসেম্বরেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

সরকারের নীতি নির্ধারকরা এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।  আগামী বছরের শুরুতে এই দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। 

মেয়াদ শেষের আগে এই ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

ইতিমধ্যেই ঢাকা এবং চট্টগ্রামে রাজনৈতিক মহলে এটা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।  যদিও বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না।  কিন্তু সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কোনোরকম তফসীল ঘোষণার আগেই এই নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপির সম্ভাব্য দুই প্রার্থী। 

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে যে, ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা খবই কম।  মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম মাত্র এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।  সেজন্য তিনি আরও একটি টার্মে নির্বাচিত হবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।  কিন্তু ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে আওয়ামী লীগ কাকে মনোনয়ন দেবে এই নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম মেরুকরণ হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অংশ দাঁড়িয়ে গেছে।  ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগকে সাংঠনিকভাবে গতিশীল এবং শক্তিশালী করার জন্যেও মেয়র পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলের নেতারা।  কেন্দ্রীয় কোনো নেতাকে ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার জন্যেও দলের একটি মহল ক্রিয়াশীল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।  তবে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন যে, অক্টোবরের কাউন্সিলকে সামনে রেখে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরীর উত্তর এবং দক্ষিণের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।  এই কমিটি গঠনের পরপরই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হবে।  সিটি কর্পোরেশনে এখনও সাঈদ খোকন নিশ্চিত নন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সবাইকেই সুযোগ দিতে চাইছেন।  একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বও বিকষিত করতে চাইছেন তিনি।  এই কারণে সাঈদ খোকন দক্ষিণের মনোনয়ন পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।  তবে সাঈদ খোকনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, দ্বিতীয় মেয়াদে হয়তো সাঈদ খোকনই ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে থাকবেন। 

সাঈদ খোকন থাকবেন কি থাকবেন না তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।  তবে চট্টগ্রামে আ জ ম নাসির যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না সেটা মোটামুটি নিশ্চিত।  এ ব্যাপারে সরকারের হাইকমান্ড থেকে ইতিমধ্যে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো বলছে।  নানা কারণে আজম নাসিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকেরা ক্ষুব্ধ।  সব মেয়রকে প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হলেও শুধুমাত্র চট্টগ্রামের মেয়রকে এখন পর্যন্ত কোনো পদ-পদবী দেওয়া হয়নি।  এটা নিয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের মধ্যে নানারকম কথাবার্তা রয়েছে। 

আ জ ম নাসিরের সঙ্গে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সম্পর্ক আগের চেয়ে খারাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।  সূত্রমতে, চট্টগ্রামে মেয়র পদের জন্য একাধিক প্রার্থী প্রস্তুত হচ্ছেন।  ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন।  তারা বলছেন যে, মেয়র পদে এবার পরিবর্তন হবে। 

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পদে নির্বাচন এ বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।  এরমধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নিশ্চিত।  দক্ষিণে সাঈদ খোকন সংশয়াচ্ছন্ন।  চট্টগ্রামে মেয়র প্রার্থী বদল হচ্ছে তা মোটামুটি নিশ্চিত।  তবে সবই চূড়ান্ত হবে আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পর। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, আমরা এখন কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত।  কাউন্সিলের আগে মেয়র পদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিচ্ছি না।  তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে এই দুটি মেয়র পদের জন্য ইতিমধ্যেই লবিং এবং গনসংযোগ শুরু করেছেন। 



keya