১০:৫২ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোববার | | ১২ মুহররম ১৪৪০


গাইবান্ধায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৫৬ এএম | জাহিদ


তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কাটাখালী নদীতে ভাঙ্গনের পশ্চিম বাঙ্গাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশের একটি কক্ষের মেঝে ভেঙ্গে দেবে গেছে।  দেয়ালে ধরছে ফাটল। 

বর্তমানে পাশের কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেনিকক্ষে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীদেরকে পাঠদান করানো হচ্ছে।  তিনমাস অতিবাহিত হলেও ভবনটির শ্রেনিকক্ষ সংষ্কারে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  অতিদ্রুত এই বিদ্যালয়ে নতুন আরও দুইটি কক্ষ নির্মাণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের স্থাপিত পশ্চিম বাঙ্গাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয় ২০১৩ সালে।  বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক দিয়ে ক্লাশে পাঠদান দেয়া হচ্ছে।  সকল শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৬৫ জন। 

চলতি বন্যায় বিদ্যালয়ের একটি শ্রেনিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাশের আরেকটি কক্ষে সকাল থেকে দুপুরে একটি ক্লাশ রুমে পাঠদান করানো হয় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনি এবং দুপুর থেকে বিকেলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির ১২০জন ছাত্রছাত্রীকে একই ক্লাশ রুমে পাঠদান দেয়া হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, চারকক্ষ বিশিষ্ট পশ্চিম বাঙ্গাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পূর্ব পাশের একটি শ্রেনিকক্ষের নিচে মাটি নেই।  চলতি বন্যায় ভাঙ্গনের ফলে কক্ষটির মেঝের মাটি নদীতে ভেঙ্গে গেছে।  ফলে ভবনটি পূর্বদিকে কিছুটা হেলে আছে।  কক্ষটির ভেতরে ও বাহিরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। 

অন্য তিনটির মধ্যে একটি অফিসকক্ষ।  আর অন্য দুইটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান শিক্ষকরা।  শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয় মাঠের পূর্বপাশে নদীর পাড় দিয়ে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।  বাঙ্গাবাড়ী গ্রামের আনছার আলী বলেন, আমার ছোট মেয়েটা ওই স্কুলে পড়াশোনা করে। 

একটি শ্রেনিকক্ষের নিচের মাটি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ার পর দেয়ালে ফাটলও ধরেছে।  তার পাশের কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে ফাটল ধরা ক্লাশরুমে ক্লাশ করছে।  কখন যে কি হয়, তাই সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি।  কিন্তু দীর্ঘদিনেও ভবনটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

বিদ্যালয়ের শ্রেনিকক্ষ ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে দেয় না।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির তিনজন ছাত্র-ছাত্রী জানায়, এখন এককক্ষেই একসাথে গাদাগাদি করে বসে দুই সিফটে চারটি শ্রেনির পাঠদান চলছে। 

উচ্চস্বরে পড়ার কারণে সবার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।  তারপরও বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষের পাশের আরেকটি কক্ষে প্রতিদিন আমাদেরকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।  সবসময় চিন্তা করি কখন যে ভবন ভেঙ্গে যায়।  এই কারণে বিদ্যালয়ে আসতে ইচ্ছে করে না।  ফলে আমাদের অনেক পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে।