৮:০২ পিএম, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

গাইবান্ধায় তীব্র শীতে ব্যবসা বানিজ্য স্থবির, জনশুন্য রাস্তাঘাট

১২ জানুয়ারী ২০১৮, ১২:০৩ পিএম | নিশি


তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধাঃ উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গত ১০দিনের ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার অসহনীয় শীতে মানবজীবনে যবুথুবু অবস্থা বিরাজ করছে।  শীতে কাবু মানুষগুলো যেন ঘর থেকে বেরুতে পারছেনা।  এর ফলে রাস্তাঘাট জনশুন্য সহ হাট-বাজার এবং শহর-বন্দরের ব্যবসা বানিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।  

টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশায় চরম বেকায়দায় পড়েছে দরিদ্র পরিবারের মানুষ।  অনেককে গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনোমতে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।  দিন-রাত ঘন কুয়াশায় বৃষ্টির মতো শিশির পড়ছে।  হিমেল হাওয়া ও কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে সর্বত্র।  সূর্যের আলো মাঝে মধ্যে উঁকি মারছে।  অসহনীয় শীতের কারণে দিনমজুর মানুষগুলো শ্রম বিক্রি করতে ঘর থেকে বেরুতে পারছেন না।  ফলে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে শ্রমজীবী মানুষেরা। 

অব্যহত শীতের কারণে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।  আর বিত্তবান মানুষ ওই বস্ত্র কিনতে পারলেও গরিব মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।  ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। 

দীর্ঘ শীতের কারণে বৃদ্ধ-শিশুদের নানা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।  শীত জনিত কারণে গাইবান্ধা জেলার আব্দুর রহমান (৭০), বঙ্কিম চন্দ্র (৬০) আউয়াল প্রধান (৮২) সহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার সকালে জেলার হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত সর্দি কাশি, হাঁপানি, পেটের পীড়া, কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভীড় পরিলক্ষিত হয়।  রোগীদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। 

এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে গৃহস্থলিরা।  এসব পশু পাখির খাদ্য সংকট সহ দেখা দিয়েছে বহুবিধ রোগ বালাই।  এর ফলে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর মোড়ক দেখা দিয়েছে।   

গাইবান্ধায় দিনের বেলাও ট্রেন বাসসহ সকল প্রকার যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।  জেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পথে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। 

এদিকে কুয়াশা অব্যহত থাকায় সবজি চাষীদের ফসল নষ্ট হওয়া ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।  সেই সাথে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের বীজতলা হলুদ বর্ণে বিবর্ণ হয়েছে।  এর ফলে কৃষকদের বোরো চষে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya