১০:৩০ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




গুগলে কর্মীদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একযোগে কর্মবিরতির প্রতিবাদ

০১ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৭ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে কর্মরত হাজার হাজার কর্মী যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একযোগে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

এসময় তারা গুগলে কর্মরত নারী কর্মীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ এখন যে পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

এই প্রতিবাদে অংশ নেয়া কর্মীরা চাইছেন যৌন অসদাচরণের অভিযোগ যেন তারা চাইলে আদালতেও নিয়ে যেতে পারেন।  বর্তমান ব্যবস্থায় এরকম অভিযোগ বাধ্যতামূলকভাবে সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়।  গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কর্মীদের বলেন, তিনি তাদের এই প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করেন। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'আপনাদের মনে যে ক্ষোভ এবং হতাশা কাজ করছে, আমি সেটা বুঝতে পারি।  যে সমস্যাটা আমাদের সমাজে বহু বছর ধরে বিরাজ করছে, তার বিরুদ্ধে অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। '

গুগলে এই ব্যাপক ক্ষোভ-প্রতিবাদের সূচনা হয়েছে এক উচ্চপদস্থ নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি রুবিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে।  অ্যান্ডি রুবিন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছেন।  তিনি সম্প্রতি গুগলের চাকুরি ছেড়ে দেন।  কিন্তু তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকার পরও তাকে চাকুরি ছাড়ার সময় মোট নয় কোটি ডলার দেয়া হয়েছিল। 

গত সপ্তাহে এই পুরো বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।  একই ধরণের অভিযোগ উঠেছে গুগলের এক্স রিসার্চ ল্যাবের আরেক নির্বাহীর বিরুদ্ধেও।  তিনিও কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেছেন। 

গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই অবশ্য জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকে অন্তত ৪৮ জন কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ছাঁটাই করা হয়েছে, যাদের কাউকেই কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। 

গুগলের যে কর্মীরা বৃহস্পতিবার তাদের কাজ ফেলে অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন, তারা তাদের ডেস্কে একটি নোট লিখে রেখে যান।  সেখানে লেখা ছিল, 'আমি আমার ডেস্কে নেই, কারণ আমি অন্য গুগল কর্মী এবং কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে মিলে যৌন হয়রানি, অসদাচরণ, স্বচ্ছতার অভাব ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। '

গুগল কর্মীরা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছেন তা হলো-

১. গুগলের বর্তমান বা ভবিষ্যত কর্মীদের বেলায় হয়রানি বা বৈষম্যের অভিযোগ উঠলে তা সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তির বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া

২. বেতন এবং সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপের অঙ্গীকার

৩. যৌন হয়রানির বিষয়ে রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ

৪. যৌন অসদাচরণের অভিযোগ যেন নিরাপদে এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে দায়ের করা যায়, তার ব্যবস্থা করা। 

সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলোতে সাধারণত কোন বিরোধ বা অভিযোগ 'বাধ্যতামূলক সালিশে'র মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়।  তবে সমালোচকরা বলছেন, কোম্পানিগুলো তাদের সুনাম এবং অভিযুক্তদের রক্ষায় এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। 



keya