৮:৫৪ পিএম, ২৩ মে ২০১৮, বুধবার | | ৮ রমজান ১৪৩৯

South Asian College

গুরুদাসপুরে ব্যবসায়ীদের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:৪০ পিএম | মুন্না


মো: আখলাকুজ্জামন, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মোকামের ২২ জন চাউল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. ছাবেন শাহ (৪৫) নামে আরেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

চাঁচকৈড় বাজারে ‘মেসার্স শাহ্ এগ্রোফুড’ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  কিন্তু ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ছাবেন শাহর ছোট ভাই সেলিম শাহর মেসার্স শাহ এন্টার প্রাইজ নামের রড-সিমেন্টের দোকানে তালা ঝুলিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উধাও হওয়া ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ’র বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পক্ষে ব্যবসায়ী মো.গোলাপ তালুকদার ওই অভিযোগটি দাখিল করেন।  গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস সোমবার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পক্ষে গোলাপ তালুকদার, ইমরুল শাহ ও দিলীপ কুমার ঘোষসহ কমপক্ষে ১০ জন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন,  ব্যবসায়ী মো. ছাবেন শাহ চাঁচকৈড় মোকামের এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে নগদ ও বাকিতে চাউল কিনতেন।  সর্বশেষ জানুয়ারি মাসেও প্রায় ৩০-৪০ ট্রাক চাল বাকিতে ক্রয় করেন ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ।  ২৭  জানুয়ারি  এসব ব্যবসায়ীরা তাদের পাওনা বকেয়া বাকি টাকার তাগাদা দেন।  এসময় টাকা পরিশোধ না করে পাওনাদার ব্যবসায়ীদের সাথে অসদাচরণ করেন অভিযুক্ত  ছাবেন শাহ।  বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে মৌখিক অভিযোগদেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা।  এরই ফাঁকে টাকা পরিশোধ না করেই উধাও হন  ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ। 

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করে উধাও হওয়ার পেছনে ছাবেন শাহর ভাই মো. সেলিম শাহ, মালুশাহ ও চাচাতো ভাই মশিউর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে।  তাদের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে এসব ব্যবসায়ীদের চাল বাকিতে নিয়ে উধাও হয়েছেন। 

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মধ্যে মো. গোলাপ তালুকদার  ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৪ টাকা, ব্যবসায়ী রবিউল করিম ১ কোটি ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৬২৩ টাকা ব্যবসায়ী কছিমুদ্দিন এককোটি ৪৩ লাখ ব্যবসায়ী সিদ্দিক মোল্লা ৮৬ লাখ মো. শাহিন প্রামানিক ৭২ লাখ দিলীপ কুমার ঘোষ ৬৫ লাখ মো. ইমরুল হোসেন ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৭ টাকাসহ সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকার চাউল বাকিতে ক্রয় করেন ছাবেন শাহন। 

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা দাবী করেন, ক্ষতিগ্রস্থ এসব ব্যবসায়ীরা ধানসেদ্ধ-শুকানোর চাতাল, কেউ কেউ বাড়ি- ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধক রেখে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।  অনেক ব্যবসায়ী মোকাম থেকে ধান-চাল বাকিতে কিনে এনে ছাবেন শাহর কাছে বাকিতে চাল বিক্রি করেছেন।  কিন্তু ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে উধাও হয়ে পড়ায় তারা এখন উদ্বিগ্ন। 

উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আয়নাল হক তালুকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের তালিকায় তিনিও রয়েছেন।  পাওনা টাকা আদায়ে ছাবেন শাহ’র সাথে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে।  নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপন করে এখন নিরুদ্দেশ তিনি।  তার স্বজনদের বলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। 

উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ছামসুল হক শেখ ও উপজেলা রড-সিমেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন শাহ বলেন, স্থানীয়ভাবে আপোসের চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।  বাধ্য হয়ে ক্ষতিগস্থ ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।  তবে ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা আদায় না হলে ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে পথে বসবেন এসব ব্যবসায়ীরা। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ছাবেন শাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি (০১৭৭২-৮০৫১১৭)  বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।  তার চাচাতো ভাই সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান মুঠোফোনে দাবী করেন,  ৬-৭ বছর ধরে পরিবারসহ তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।  ছাবেন শাহর সাথে তার কোন ব্যবসায়ীক সর্ম্পক নেই।  যোগসাজশ থাকার প্রশ্নই ওঠেনা।  রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই অভিযোগে তাকে জড়ানো হয়েছে। 

ছাবেন শাহর ছোট ভাই মো. সেলিম শাহ দাবী করেন, তিনি পৃথকভাবে বসবাস করেন।  তার চাচাতো ভাই মশিউর রহমান বাবলুর ঘর ভাড়া নিয়ে ‘মেসার্স শাহ এন্টার প্রাইজ’ নামে পৃথক রড-সিমেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত।  বাংক ঋণ এবং মহাজনের কাছে বাকিতে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন তিনি।  তার ভাইয়ের ব্যবসার সাথে কোন সম্পর্ক নেই।  তার পরও কতিপয় ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya