৭:২৯ এএম, ২৫ মে ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ রমজান ১৪৩৯

South Asian College

৮০০ হেক্টর আবাদী জমি নষ্ট

গুরুদাসপুরে মাছের অভাব না থাকলেও পুকুর খননের হিড়িক

১৬ মে ২০১৮, ০৩:৩৩ পিএম | মুন্না


মো.আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুরে রবি মওসুমের ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।  প্রভাবশালীদের ইচ্ছামতো পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতায় বছরজুড়েই বন্ধ থাকে তিন ফসলি জমির চাষাবাদ।  চলমান ও আগের খননকৃত মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে বলে মনে করছেন উপজেলাবাসী। 

কিন্তু সরকারী হিসাব মতে ৫ হাজার ৪৩৫টি বেসরকারী পুকুর ও মাত্র ৩২টি সরকারী পুকুর রয়েছে এবং ২০১৭ সালের জরিপে দেখা গেছে, সে সময় উপজেলায় বেসরকারী পুকুরের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৬৪৯টি।  এরপরেও নতুন করে চলতি বছরের শুরুর দিকে ৭৮৬টি পুকুর খনন হয়েছে।  নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুকুর খননের হিড়িক পড়ে যাওয়ায় বাস্তবে পুকুরের সঠিক হিসাব আর সরকারী হিসাবের মধ্যে দেখা দিয়েছে গড়মিল।  তবে এ পর্যন্ত প্রায় ৮’শ হেক্টর আবাদী জমি নষ্ট করে মাটিকাটা ভেকু গাড়ি দিয়ে পুকুর খনন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন। 

অথচ পাঁচ বছর আগেও বিলের জমিগুলোতে অনেক ভাল চাষাবাদ হয়েছে।  তখন এলাকার দারিদ্র কৃষকদের দিনাতিপাত হতো মহাজনের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে ফসল উৎপাদন করে।  এখন পুকুরে পরিণত হয়ে গেছে সেসব আবাদী জমি।  ফলে বদলে গেছে কৃষকদের কর্মক্ষেত্র।  বদলেছে এলাকার চিত্র।  পুকুরের কারণে মারাত্মকভাবে কমে গেছে কৃষি উৎপাদন।  আপাত দৃষ্টিতে যতদুর চোখ যায় শুধুই উঁচু উঁচু পাড়।  এসব পাড় ঘেরা একটার পর একটা পুকুর।  অবৈধভাবে পুকুর খননকৃত জমির তালিকায় শুধু যে কৃষকের ফসলি জমি আছে তা নয়, সরকারী খাস খতিয়ানের জমিও বাদ যাচ্ছেনা।  তবুও প্রশাসন নীরব-নির্বিকার। 

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিলগুলো আর ফসলের মাঠ নেই।  সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানা মিলে শত শত হেক্টর জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে।  এসব জমিতে তিন মওসুমে বিভক্ত করে বছরজুড়েই ফসল উৎপাদন হতো।  খরিপ-১ মওসুমে রোপা আউশ, বোনা আউশ, হলুদ, মুগ, পাট, তিল, মরিচ ও বিভিন্ন সবজি চাষ হতো।  খরিপ-২ মওসুমে রোপা আমন, মাস কালাই, সবজির চাষ করতো কৃষক।  এছাড়া খরিপ-৩ মওসুমে সরিষা, মসুর, গম, ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ, খেসারী, মটর, ধনিয়া, কালোজিরা, মেথি, আলু, আখ, তরমুজ, বাঙ্গি ও খিরার উৎপাদন হয়। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন- ২০১০ সালেও উপজেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৯ হেক্টর।  কিন্তু ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৭১৫ হেক্টর জমি কমেছে।  এরপর যেসব পুকুর খনন করা হয়েছে তার কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। 

অপরদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের খতিয়ান ঘেটে দেখা গেছে, ১ হাজার ৩৬৭ হেক্টর জল আয়তনের ৮ হাজার ৬৪৯টি পুকুরের ওপর উপজেলার ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৮ জন মানুষের মাছের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৭০৩ মেট্রিক টন।  এছাড়া ১৮৯ হেক্টর উন্মুক্ত জলাশয়ের ৯টি পুকুর থেকে মাছের উৎপাদন হয়েছে ৩০ মেট্রিক টন, ০.৯ হেক্টরের ৩টি খাল থেকে ২.৫ মেট্রিক টন, ২২ হেক্টরের ৬টি বিল থেকে ২২ মেট্রিক টন এবং ৩ হাজার ১৩২ হেক্টরের ৩০টি প্লাবন ভূমি থেকে মাছে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৩৬ মেট্রিক টন।  তাছাড়া বাণিজ্যিক মৎস্য খামারের সংখ্যা রয়েছে ১৬৯টি।  এখান থেকে উৎপাদন হয় ৮৩৫ মেট্রিক টন মাছ।  তবুও মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হতে একশ্রেণির স্বার্থন্বেশী মহল ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননে মেতেছেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা একেএম আবদুল হালিম বলেন- উপজেলার সর্বত্র এখন ফসলি জমি উজার করে চলছে অবৈধপন্থায় পুকুর খনন।  পুকুর সংলগ্ন ফসলি জমিগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।  এ কারণে জমিতে ফসল উৎপন্ন না হওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকরা।  বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।  তবে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন। 

Abu-Dhabi


21-February

keya