৮:৩৭ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৮ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ভাঁপা পিঠা!

০৭ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪৭ পিএম | সাদি


সৈয়দ ফয়েজ আলী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : বাংলাদেশ প্রকৃতির রূপবৈচিত্রের এক অনন্যান্য দৃষ্টান্ত পৃথিবীর বুকে এই বাংলাদেশ।  ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।  পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীনদেশ হিসাবে স্বীকৃতি পায়।  প্রাকৃতিক লীলাভূমির দেশ বাংলাদেশ।  শত শত কবির কবিতার মধ্যে এই বাংলার রূপের বর্ণনা ফুটে উঠে। 

যেমন পল্লী কবি জসিম উদ্দীনের কবিতার ছন্দে ছন্দে এক মাঁয়াবিনীর রূপের বর্ণনা গেয়েছেন।  আবার মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ, আবার আসিবো ফিরে ধান সিঁড়ির তীরে, এই বাংলায় হতো মানুষ নয়, শঙ্খচিল শালিকের বেশে।  এইসব কবিতার মধ্যে বাংলার মানুষ তার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দেখতে পায়।  কবিতার কথামালা যেনো তার সামনে এসে হু বহু দেখতে পাচ্ছে। 

গ্রীর্ষ, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, ছয়টি ঋতুর ভিতরেই ১৬ কোটি মানুষের বসবাস।  কখনো খাঁ খাঁ রোদ, কখনো বৃষ্টি, আবার কখনো নদীর প্রেমেরপূর্ণনতা পেয়ে ভাসিয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।  এমনি একরূপের মহিমা বাংলার প্রতিটা পথে প্রান্তরে।  রাখালের বাঁশির সুর আর দলবেধে  মাঠে গরু ছড়ানোর একমাত্র দৃশ্য দেখাযায় বাংলার মাঠে ময়দানে।  এই বাংলার রূপতন্ত্রের কথা দিয়ে শত শত কবির আর্বিভাব ঘটেছে এই বাংলায়। 

অগ্রায়নের প্রথমেই বাংলার প্রতিটা ঘরে ঘরে তোলা হয় সোনার ফসল সাইল ধান।   যা দিয়ে সারা বছরের খাবারের যোগান দেয় কৃষকেরা।  কনকন শীতের মধ্যে গ্রামের প্রতিটা ঘরে পিঠা পুলির আয়োজন করে গ্রামের কৃষানিরা।  বাঙালীর ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পড়লে দেখাযায় যে, পৌষ এবং মাঘ মাসে মেয়েদের শ্বশুর বাড়িতে নতুন ধানের নানা রকম পিঠাপুঠলি পাঠায় বাপের বাড়ি থেকে।  শ্বশুর বাড়ির লোকেরা খুঁশির আমেজে আনন্দিত হয়ে সেই পিঠাপুঠলি আশ পাশের সব ঘরেতে বিতরন করে।  তখন বাড়িতে চলে গীতের সাথে নাচ আর গানের  উৎসব।  আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসে বাড়িতে।  

কিন্তু গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা গেলেও শহর অঞ্চলে এ দৃশ্য দেখামানে আঁকাশের চাঁদ হাতের মুঠোয় পাওয়ার মতো।  কিন্তু শহরের মানুষকে কৃত্রিম সুখ দিতে এর জন্য রিক্সাভ্যানে কিছু ফেরিওয়ালা শীতের নানা পিঠা নিয়ে রাস্তায় বিক্রি করতে দেখাযায়।  শত ব্যস্ত থাকার মধ্যেও শহরের মানুষ পিছিয়ে নেই কোনো দিকে।  সন্ধ্যার পর বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে ভিড় জমায় পিঠা খেতে।  পৌষ মাসের কনকন শীতের মধ্যে মৌলভীবাজার চৌমোনায় পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায় মৌলভীবাজার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা হান্নানকে। 


তার সাথে কথা বললে পিঠা বিক্রেতা হান্নান বলেন, আমি প্রায় বছরই শীতে পিঠা বিক্রি করি।  কিন্তু এ বছর গত বছরের চাইতে একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে।  আমি প্রতি দিন তিন থেকে চাঁর কেজি চালের পিঠা বিক্রি করি।  এতেই আমার সংসার চলে।  বাংলাদেশের একমাত্র ঠান্ডা জেলা হচ্ছে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের পর্যটক নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলা।  শ্রীমঙ্গল থেকে আসা ইমাদ আলী কে পিঠা খেতে দেখে তার  সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একটা কাজের জন্য এসেছি তাই ভাবলাম একটা পিঠা খাই।  এতশীতের মধ্যেও দাঁড়িয়ে পিঠা খেতে কত আনন্দ পাচ্ছি তা মুখে বলা সম্ভব নয়।  আমি যখন ছোট ছিলাম আমার মা আমাদের কত রকমের পিঠা করে খাওয়াতেন।  এই ঘর থেকে এই ঘরে যেতাম পিঠা খাওয়ার জন্য। 

জমিনের নেড়া খেটে এনে আগুন তাবাইতাম।  এখন আর এমন দৃশ্য দেখা যায় না।  এখনকার ছেলে মেয়েরা এমন করে না।  তাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ভুলে গিয়ে ইন্টারনেটে মগ্নো।  শুধু পিঠা নয় চলছে  সিদ্ধ ডিম  খাওয়ার প্রতিযোগিতা বন্ধু বান্ধদের মধ্যে।  শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা, মৌলভীবাজার চৌমোনা চত্বরের

ডিম বিক্রেতা মো: শাহাজানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই শুধু ডিম বিক্রি করেই হাত কালি করতে পারছিনা পিঠা বিক্রি করলে তো আর রেহাই পাবোনা।  আমি প্রতি দিন ২৫০ থেকে ৩০০ ডিম বিক্রি করি এতেই আমার সংসার চলে।  আর কয়েক দিন ধরে তো শীত একটু বেশি তাই ডিমের অনেক চাহিদা রয়েছে।