১০:৫৮ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ১ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

গোশতের দাম ২০০ টাকা

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩২ এএম | রাহুল


রাহুল দাস  : শিরোনাম দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে গোশত কী করে এত কম দামে বিক্রি হয়? গরু কেনা থেকে শুরু করে হাসিল পরিশোধ এবং কসাইয়ের মজুরি দেয়ার পর কোরবানির গোশতের মূল্য দাঁড়ায় কেজি প্রতি সাতশ' থেকে আটশ' টাকা।  অথচ সেই গোশতই এখন হাত ঘুরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়েছে ২০০ ঠেকে ২৫০ টাকা দরে। 

নগরীর ২নং গেট, মুরাদপুর, হামজারবাগ, আতুরার ডিপু, অক্সিজেন, আমান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এ দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।  মূলত সকাল থেকে ভিক্ষুক এবং দুস্থ মানুষেরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে যে গোশত সংগ্রহ করেছেন সেটাই তারা এসব স্থানে বিক্রি করছেন।  আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু মৌসুমী ব্যবসায়ী। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমান বাজারের ২ কেজি মাংস নিয়ে আসা  হালিম বলেন, ভাইজান আমরা গরিব মানুষ।  আমাদের জন্যতো আর কোরবানি নেই।  সকাল থেকে খুঁজে যা পেয়েছি তার চারের তিন ভাগ বিক্রি করার জন্য আসলাম।  কেননা ঘরে শুধু গোস্ত খেলেতো আর পেট ভরবে না চালওতো কিনতে হবে। 

কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব গোশতের দাম উঠানামা করছে।  অর্থাৎ হাড়ের পরিমাণের ওপর নির্ভর করছে এসব গোশতের মূল্য।  তাই কোথাও দুইশ' টাকা কোথা ও আড়াইশ' টাকা। 

অক্সিজেন কাচাবাজারের বিপরীতে এক গোশত বিক্রেতা বলেন, এসব গোশত রান্না করে খাওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।  তার চেয়ে বরং ৩/৪ কেজি মাংস বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় সেটা দিয়ে চার দিন সংসার চালানো যায়। 

এদিকে, এসব গোশত মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যাওয়ায় গোশতের মান প্রশ্ন থেকেই যায়।  কারণ বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বিভিন্ন রকমের গোশত একত্রিত করে বিক্রি করা হচ্ছে কেজি দরে।  অথচ ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয়নি এসব গোশত। 

পুষ্টিবিদদের বক্তব্য, খুব সকাল থেকে সংগ্রহ করা হয় এসব গোশত।  দীর্ঘ সময় পার হলেও তা সংরক্ষণে কোনো স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা নেয়া হয় না।  ফলে এসব গোশতে বিভিন্ন ধরনের জীবানু ও ব্যকটেরিয়া আক্রমণ করে।  এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্নটি থেকেই যায়।