৭:০৭ এএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে পাঠশালা যায় মাইদুল

০৭ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩৮ পিএম | জাহিদ


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : মাইদুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল একদিন বড় হয়ে মানুষের জন্য কাজ করবে।  সে কারণে তার বড় ইচ্ছে লেখাপড়া।  কিন্তু তার বিদ্যালয়টি প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে। 

সে কারণে তার প্রয়োজন একটি বাই সাইকেল।  দিনমজুরের ছেলের স্বপ্ন বাইসাইকেলে করে তার স্কুলে যাবেন না।  তার ইচ্ছে ঘোড়ায় করে তার স্কুলে যাবেন।  অবশেষে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।  এখন সে ঘোড়ায় করে বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যায়। 

মাইদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা চন্দ্রপুর ইউনিয়নে খামারভাতি এলাকার দিনমজুর লিয়াকত আলীর ছেলে।  সে চন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।  সে প্রতিদিন ৩ কিলো মিটার পথ পারি দিয়ে ঘোড়ায় পিঠে চরে স্কুলে যায়।  মাইদুল ইসলাম দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে মেজ।  তার বড় বোন লতিফা খাতুন চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে নবম শ্রেনির ছাত্রী।  মাইদুল ইসলাম পড়াশুনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। 

জানা গেছে, মাইদুল ইসলাম ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার দাদার একটি ঘোড়া ছিল ঘোড়াটি দেখেই ভালবাসতে থাকে মাইদুল।  একসময় তার দাদা অভাবের তাড়নায় ঘোড়াটি বিক্রি করেন।  ঘোড়া বিক্রির পর থেকে ঘোড়ার জন্য তার বাবার কাছে প্রতি দিনেই কাঁদতে থাকে  মাইদুল ইসলাম। 

তার বাবা লিয়াকত আলী উপায় অন্তর না পেয়ে দিনমজুরের কিছু টাকা সংগ্রহ করে অনেক কষ্টে ৬ হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয় বালাপাড়া হাটে ছয় মাসের একটি ঘোড়ার বাচ্চা কিনে দেন।  সেই ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করতে থাকেন মাইদুল।  তার প্রিয় ঘোড়াটির নাম রাখেন বাহাদুর।  তার ইচ্ছে বাহাদুরের পিঠে চড়ে স্কুলে যাবে। 

মাইদুল ইসলাম বলেন, ঘোড়ার পিঠে চড়ে প্রথম যেদিন স্কুলে যাই সেদিন থেকে স্কুলের সকল ছাত্র,ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা গণ আমাকে একনামে চিনেন।  স্কুলে আমার ঘোড়া বাহাদুর কে দেখে সবাই আনন্দ পান। আমার বন্ধুরা ঘোড়ার পিঠে উঠতে চায় আমিও তাদেরকে ঘোড়ার পিঠে উঠাই।  এখন আমার ইচ্ছে পড়াশুনা করে ডাক্তার হওয়ার। 

তার বাবা লিয়াকত আলী বলেন, আমার ছেলে ঘোড়া দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিল তাই দিনমজুরী করে টাকা সংগ্রহ করে অনেক কষ্টে ছেলে কে ঘোড়া কিনে দেই।  আমার ইচ্ছে দিনমুজুরি করে ছেলে মেয়েকে পড়াশুনা করাব। 

চন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, মাইদুল ইসলাম দিনমুজুরের ছেলে হলেও খুব মেধাবী।  সে ঘোড়া নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসায় সবাই আনন্দ পায়।