৮:৫৫ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | | ৪ রজব ১৪৪১




ঘুষ না পেয়ে বেতন বন্ধ করা সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গনপিটিশন

২৩ জানুয়ারী ২০২০, ১০:২১ এএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিহাট প্রতিনিধিঃ ঘুষের টাকা না পেয়ে সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সেই প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার গনপিটিশন দিলেন অভিভাবকরা। 

 উপজেলার কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গনপিটিশন বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়েছেন। 

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল দাবিকৃত ঘুষের ৮লাখ টাকা না পেয়ে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সহকারী শিক্ষক (গনিত) মনোয়ারুল ইসলামের বেতন বন্ধ করেন।  কোন ধরনের নোটিস ছাড়াই বেতন বন্ধ করায় বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম।  এ নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারী বাংলানিউজে 'ঘুষ না পেয়ে শিক্ষকের বেতন বন্ধ করলেন প্রধান শিক্ষক' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।  যার ফলে নড়াচাড়া দিয়ে উঠে শিক্ষা বিভাগ।  একই সাথে দুর্নীতির তদন্তে মাঠে নেমে পড়েন সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।  ঊর্দ্ধতন মহলে নড়াচাড়া দেয়ায় বিদ্যালয়টির অভিভাবক ও স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেন। 

বুধবার(২২ জানুয়ারী) বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা  গনস্বাক্ষরীত একটি লিখিত অভিযোগ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠান।  যার অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। 

এ দিকে নিজেকে নির্দোশ দাবি করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত নিউজের প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।  একই সাথে বেতন বন্ধের প্রতিবাদে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করা শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলামকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকী দিচ্ছেন বলে ওই শিক্ষক দাবি করেন।  পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে শিক্ষক মনোয়ারুলের দায়ের করা জিডিও নথিভুক্ত করেনি থানা পুলিশ।  জিবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শ্বঙ্কায় ওই শিক্ষকের পরিবার। 

অভিযোগে বলা হয়, কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কামরুল ইসলাম কাজল।  তিনি যোগদানের পর নির্বাচন ছাড়াই মনগড়া পরিচালনা কমিটি গঠন করে একের পর এক সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন।  বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা অতিপ্রাচীন কিছু গাছ কেটে এবং বিদ্যারয়ের জমি অধিগ্রহনের বিনিময়ে পাওয়া কয়েক লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল।  অনিয়মই তার কাছে নিয়মে পরিনত হয়েছে।  ফলে প্রতিষ্ঠানে দিন দিন শিক্ষার মান নিম্নমুখি হচ্ছে। 

মনগড়া কমিটির মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারী অর্থ।  যোগদান না করেও ওয়াহেদ আলী নামে একজন শিক্ষকের নামে প্রতি মাসে দেয়া হচ্ছে বেতন ভাতা।  উক্ত অদৃশ্য শিক্ষক ওয়াহেদ আলী কালীগঞ্জ উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামাড় প্রকল্পে মাঠ সহকারী পদে কর্মরত থেকে ২০১৪ সাল থেকে সরকারী ভাবে বেতন ভাতা ভোগ করছেন।  প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল এ ভুয়া শিক্ষকের নামে আসা বেতন নিজে উত্তোলন করে আত্নসাৎ করার পায়তাড়া করছেন বলে অভিভাবকদের দাবি। 

প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম দাবি করা ৮লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পাস মেধাবী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলামের বেতন বন্ধ করে গলাধাক্কা দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন।  সাম্প্রতিক সময় ওই শিক্ষকের করা অভিযোগে এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ তদন্তে নামলে ভুয়া অব্যহতি পত্র দেখান প্রধান শিক্ষক। 

অভিভাবক বজলুল করিম ও শিব্বির আহমেদ  বলেন, প্রধান শিক্ষক কামরুল নির্বাচন ছাড়াই মনগড়া কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়কে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন।  প্রতিবাদ করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেন।  ঘুষের প্রতিবাদ করায় মেধাবী শিক্ষক মনোয়ারুলের বেতন বন্ধ করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন।  প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। 

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত চলছে।  তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।