৭:২৬ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | | ৩০ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্র অপহরণের ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:২৫ এএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কমঃ ফাঁদ পেতে ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে অপহৃত মাদরাসাছাত্রকে উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ।  এ সময় অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে মো. ইব্রাহিম হেলাল (১৫) নামের ওই মাদরাসাছাত্রকে চান্দগাঁও থানার পাঠানীয়া গোদা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। 

গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় সোবহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার দশম শ্রেণির এই ছাত্রকে কর্ণফুলী থানার চর পাথরঘাটা এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়।  ইব্রাহিম চর পাথরঘাটা এলাকার হাজি মো. ইদ্রিসের ছেলে। 

গ্রেপ্তার হওয়া অপহরণকারী হলো মো. ফাহিম হোসেন (২১), মো. রাব্বি (২৩), মো. ইমরান হোসেন (২০) ও মো. মফিজুর রহমান রিপন (২৩)। 

নগর পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার) মো. আকরামুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইব্রাহিম হেলাল নিজ বাড়ি থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে মাদরাসায় টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।  প্রতিমধ্যে অপহরণকারী মফিজুর রহমান পরিকল্পিতভাবে সিএনজি অটোরিকশায় তাকে উঠিয়ে নেয়।   

অটোরিকশাটি নতুন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে সহযোগী অপহরণকারী ফাহিম ও রাব্বী সেই গাড়িতে ওঠে।  এরপর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ইব্রাহিমের ফোন থেকে তার মাকে ফোন দিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।  মুক্তিপণ না দিলে ইব্রাহিমকে জবাই করে হত্যা করে হবে হুমকি দেয়। 

পরবর্তী সময়ে কর্ণফুলী রিভারভিউ এলাকায় নিয়ে একটি নীরব জায়গায় ইব্রাহিমকে আটক রাখে।  বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করে তারা।  পরে ইব্রাহিমকে নিয়ে চান্দগাঁও এলাকায় শরফত উল্লাহ পেট্রল পাম্পের পেছনের নির্জন এলাকায় জিম্মি করে রাখে।  সেখান থেকে তাকে পাঠানিয়া গোদার জান্নাত বেকারির পেছনে গলিতে নিয়ে আটক রাখে অপহরণকারীরা।   

পুলিশ জানায়, অপহৃত ইব্রাহিমের মা শামিমা খাতুন মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার বিষয়টি অভিযোগ আকারে কর্ণফুলী থানায় জানানোর পর থানা পুলিশ নগর গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তা কামনা করে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ১২টায় নগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) এ এ এম হুমায়ুন কবীর ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারের (ডিবি-পশ্চিম) নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে নামে। 

প্রযুক্তির সহায়তা ও নানা ছদ্মবেশে ফাঁদ পেতে প্রথমে বহদ্দারহাট এলাকা থেকে অপহরণকারী মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।  পরে গোয়েন্দা পুলিশের ফাঁদে পা দেয় রাব্বি।  ইমরান ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ফাহিম হোসেনের জিম্মায় থাকা ইব্রাহিমকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। 

এই তিন অপহরণকারীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চক্রের অন্য সদস্য মফিজুর রহমান রিপনকে তিনটি ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।  তবে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী মো. আবু বক্করকে (২৫) এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।