৯:০৫ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

চমেক হাসপাতালে ডাক্তারদের সহযোগীতায় দিন দিন দালালদের উপদ্রব বেড়ে চলছে

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:৫৩ পিএম | রাহুল


রাহুল দাস, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছে।  কিছু দিন পর পর দালাল ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোঁকে এবং কর্তব্যরত ডাক্তারদের প্রশ্রয়ে রেহায় পেয়ে যাচ্ছে এসব দালালেরা। 

ফলে রোগী ও রোগীর আত্মীয় স্বজনেরা হাসপাতালে চরম আতংকে।  অভিযোগ রয়েছে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দালাল ধরার পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। 

রাউজান উপজেলার ওয়াহেদারখীল গ্রামের জব্বার জানায়, দালালরা জোরপূর্বক হাত থেকে স্লিপ নিয়ে ঔষধ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা রাখছে তারপরও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং খারাপ ব্যবহার করছে।  আর টাকা যদি না দেওয়া হয় মারপিট করে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকী প্রদান করা হয়। 

মঙ্গলবার সকাল ১০ টার সময় ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের ১৮ নাম্বার বেডে ভর্তি থাকা রোগী মাদিয়া খাতুনের সাথে দেখা করতে আসা রোগীর ছেলে জব্বারের কাছ থেকে ঐ ওয়ার্ডের কিছু দালাল ওয়ার্ড বয় টাকা খুঁজে।  এতে জব্বার টাকা না দিতে চাইলে তাকে ধরে মারপিট করে।  পরে তারা যখন ডাক্তারের কাছে অভিযোগ করে ডাক্তারও তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং রোগীকে রিলিজ করে দিবে বলে।  আর এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিবে বলে হুমকি প্রদান করে। 

এ ব্যপারে হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তার ধীমান বলেন, এখানে যে সকল রোগীরা ভর্তি হয় তারা কেউ আমাদের আত্মীয় স্বজন না।  আমরা কেন তাদেরকে বলবো মেরে পেলবো? এটা বলার কোন প্রশ্নই আসে না, এটা পুরোটাই একটা মিথ্যা কথা। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।  প্যাথলজি, এক্সরে, ইসিজিসহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে নানা কৌশলে রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব দালালেরা।  ফলে রোগীরা যেমন প্রতারিত হচ্ছে, তেমনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে দালালদের দৈরাত্ব আর কতিপয় ডাক্তারদের অনিয়মে প্যাথলজিক্যাল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাসপাতালের রোগীরা।  হাসপাতালের ভিতরে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের পাঠানো হয় ক্লিনিকে।  দালালদের সাথে কিছু ডাক্তারের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেছে।  হাসপাতাল অবাদে চলে দালালদের বিচরণ।  দালালদের এই বিচরণ চলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রত্যেকটি স্তরে।  অথচ এদের নিবারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যেনো অনেকটাই নিরব।  অফিস সময় প্যাথলজি সেবা পাবার কথা থাকলেও রোগীরা পান না সেই সেবা।  আর এই সুযোগ লুফে নেন দালালচক্র।  রোগীদের নিয়ে যান বিভিন্ন প্রাইভেট প্যাথলজিতে।  বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা হাসপাতালের দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই হন সর্বশান্ত। 

হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা সাইনবোর্ড-সর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ দালাল চক্রটি তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।  রোগী প্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা কমিশনের বিনিময়ে এসব দালাল রোগিকে নিয়ে যায় বিভিন্ন ডাক্তার ও প্যাথলজিতে।  হাসপাতালে অস্ত্রোপাচারের জন্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ উপকরণ প্লাস্টার, তুলা, চামড়া তোলার বেন্ডেজ, সাধারণ স্যালাইন ইত্যাদি হাসপাতালে থাকলেও কিছু সেবিকা, ওটি ওয়ার্ডবয় ও ঝাড়ুদার রোগীকে বাইরে থেকে এসব কিনতে বাধ্য করেন। 

এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন , আমাদের এই ৫০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ৩০০০ জন রোগী ভর্তি থাকে।  আর এই ৩০০০ জন রোগীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিরাপত্তা সদস্য আছে মাত্র ১৮ জন।  ফলে নিরাপত্তা দিতে হীমশীম খাচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীরা।  তবে আমাদের এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সাথে যদি কেউ খারাপ ব্যবহার বা অর্থ চাই আর তা যদি আমার কানে আসে তাহলে আমি সাথে সাথে সেই সকল ডাক্তার বা বয়, নার্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।  আজ পর্যন্ত কেউ আমার কাছে এসে বলে নাই যে আমাদের কাছ থেকে টাকা চাচ্ছে বা টাকার জন্য আমাদের হয়রানী করা হয়েছে।  আর যদি এই রকম কাজ আমার হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা বা বয় করে আমি জানা মাত্র তা ব্যবস্থা নিবো। 

Abu-Dhabi


21-February

keya