৬:১৫ এএম, ২ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার | | ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২




চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ব্যারিস্টার রফিক উল হক

২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১৬ পিএম |


এসএনএন২৪.কমঃ জানাজা শেষে প্রবীণ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মরদেহ দাফন করা হয়েছে বনানী কবরস্থানে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জানাজা শেষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্টে।  সেখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  জানাজা শেষে প্রবীণ এই আইনজীবীর মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।  সেখানেই দুপুর ৩টার দিকে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই প্রখ্যাত আইনজীবী। 

এর আগে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ব্যারিস্টার রফিকের।  জানাজা শেষে পল্টনে অবস্থিত নিজ বাসায় নেওয়া হয় এ আইনজীবীর মরদেহ। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। 

এর আগে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী এবং আদ-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিক-উল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এরপর কিছুটা সুস্থবোধ করলে গত ১৭ অক্টোবর সকালে পল্টনের বাসায় ফিরে যান তিনি।  তবে ওই দিনই দুপুরের পর তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরদিন ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।  ১৯ অক্টোবর তার করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।  তখন থেকে অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল এই প্রবীণ আইনজীবীর। 

রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে।  তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতার চেতলায়।  ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়।  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারী আইনে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। 

সফলতার অনেক গল্পই আছে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই বিপুল পরিচিতি এনে দেয় তাকে।  ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।  সেই সঙ্গে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেননি তিনি। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।  স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে আইন প্রণয়নে তারও ভূমিকা ছিল।  ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক।  কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি তিনি। পেশাগত জীবনে সফল এই মানুষটি অর্থ, বিত্তবৈভবের প্রতি মোহ ছিল না মোটেই।  বিলিয়েছেন অর্থ মানুষের সেবায়।  গড়েছেন হাসপাতাল।  যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সেবামূলক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।