৩:১৩ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


চিলমারী হাসপাতাল বেডে মৃত্যুর প্রহর গুনছে গৃহবধূটি

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৫৫ পিএম | জাহিদ


হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারী হাসপাতালে প্রায় দু’বছর ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে এক গৃহবধূ।  জটিল কুশিন সিনড্রোম রোগে ভুগছে সে।  বর্তমানে তার শরীরে পঁচন ধরে মাংস খসে খসে পরছে।  দুর্ঘন্ধে আশপাশে টেকা দায়।  তার স্বজনরা রোগীর পিছনে সহায়-সম্বল খুইয়ে এখন হাল ছেড়ে দিয়েছে। 

হাসপাতালে এখন দেখতেও আসছে না কেউ।  ফলে প্রচন্ড যন্ত্রনা আর একাকিত্ব নিয়ে গৃহবধূটি এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।  তার উন্নত চিকিৎসার খরচ জোটাতে বৃত্তবানরা এগিয়ে এলে বাঁচতেও পারে উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের গয়নার পটল চরের অধিবাসী গৃহবধূ ময়না বেগম। 

চিলমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মোস্তারী বেগম জানান, এই হাসপাতালে ময়না বেগমের এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই।  তাকে রংপুর অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারলে সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে।  কিন্তু রোগীর স্বজনরা এতই গরীব যে তাকে নিয়ে যেতেও পারছে না।  দুই বছর ধরে রুগীটি এখানে রয়েছে।  আমরা কিছু টাকা তুলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।  তার স্বজনরা এখন হাল ছেড়ে দিয়ে খোঁজ-খবরও নিচ্ছে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ময়না বেগমের পরিবারের করুণ কাহিনী।  প্রায় দুই বছর পূর্বে তার স্বামী তারেক রহমান দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।  দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে।  মেয়েটির বিয়ে দেয়া হয়েছে।  স্বামী সন্তান নিয়ে ভালই চলছিল স্বচ্ছল পরিবারটি।  কিন্তু স্বামী অসুস্থ্য হওয়ায় তার চিকিৎসার পিছনে সহায়-সম্বল বিক্রি করে দিতে হয়।  তাকে বাঁচানো না গেলেও ব্রহ্মপূত্রের করাল গ্রাস থেকে শেষ সম্বল বাড়িটিও রক্ষা করতে পারেনি তারা।  একদিকে স্বামীর মৃত্যু অপরদিকে ভাঙনে নিঃশ্ব ময়না বেগম যখন অথৈ সাগরে ভাসছিল তখন তার দিনমজুর ভাই আব্দুল গফুর ময়নাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। 

এসময় অসুস্থ্য ময়না বেগমের চিকিৎসার ভার নেন তার মেয়ে জামাই।  শাশুরীর পিছনে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জামাইও নিঃশ্ব হয়ে পরেন।  কারণ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার ঔষধ লাগে ময়না বেগমের জন্য।  অর্থ সংকটের কারণে এখন ময়না বেগমের কাছে ভিড়ছে না কেউই।  হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: মোস্তারী বেগমের আর্থিক সহায়তায় চলছে কোন রকমে চিকিৎসা।  এই বিপদাপন্ন গৃহবধূর চিকিৎসার জন্য বিত্তবান বা কোন সংগঠন এগিয়ে এলে ময়না বেগম তার অসহ্য যন্ত্রনা আর মৃত্যু ভয় থেকে বাঁচতে পারে।  এজন্য সকলের সহায়তা কামনা করেছে এই গৃহবধূটি। 

হাসপাতালের বেডে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে শুয়ে থাকা ময়না বেগম এই প্রতিবেদকের দিকে অসহায় ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থেকে বলেন, এই কষ্ট আর সহ্য হয় না।  আল্লাহ আমাকে নিয়ে গেলেই বাঁচি।  দুর্গন্ধে আমার কাছে কেউ এখন আসতে চায় না।  দু’বছর ধরে এই হাসপাতালই আমার ঘর-সংসার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


keya