৯:১০ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

১১ জানুয়ারী ২০১৮, ০১:৩০ পিএম | জাহিদ


মোঃ আমজাদ হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি : ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ। 

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার বিশ্বাস জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো ধরনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 

এই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের জন্য হাসপাতালে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।  তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিয়াদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।  গত সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ডা. রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, ৯-এর ক ধারায় একটি মামলা করেন এক ব্যক্তি। 

পরে মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় (জিআর) এই মামলার এজাহার আসে। 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ব্যক্তির বাড়ি ভোলা জেলায়।  তাঁর কিশোরী মেয়ে চর্মরোগে আক্রান্ত ছিল।  গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোলার যমুনা মেডিকেল সার্ভিসেসে ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকীর কাছে ওই ছাত্রী তার চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নিতে যায়।  বিএসএমএমইউর ডাক্তার হলেও রিয়াদ সিদ্দিকী প্রতি শুক্রবার ভোলায় রোগী দেখতেন। 

ডাক্তার রিয়াদ প্রথম সাক্ষাতের সময় ওই কিশোরীকে বিবস্ত্র করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মলম লাগিয়ে দেন।  এ বিষয়ে কিশোরী প্রতিবাদ করলে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, ‘আমি তোমার ডাক্তার।  আমার কাজ এগুলা করা, আমি এগুলো করব।  এ বলে ওই চিকিৎসক ছাত্রীর সব স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং কাউকে কিছু বলতে বারণ করেন।  এরপর ছাত্রী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি। 

এরপর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী পুনরায় চিকিৎসা করাতে ডাক্তার রিয়াদের কাছে যায়।  ওই দিন ডাক্তার রিয়াদ আবার জোড় করে বিবস্ত্র করেন এবং যৌন কাজে লিপ্ত হন।  ওই ছাত্রী তখন চিৎকার করলে ডাক্তার ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। 

ছাত্রীকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।  এরপর ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীর কিছু গোপনীয় ছবি তুলেন এবং তা ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। 

সেই সঙ্গে ছাত্রীকে নিয়মিত তার কাছে আসতে বলেন।  এরপর ডাক্তার বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, আপনার মেয়ের মরণব্যাধি রোগ হয়েছে।  তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে। 

এ ছাড়া ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকী ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে তাঁদের মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন।  গত ৩০ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন দিয়ে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, ‘আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বোর্ড বসানো হবে।  পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রীর মা-বাবা মেয়েকে নিয়ে সকালে ঢাকায় আসেন এবং বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এসে পৌঁছান। 

এরপর ডাক্তার রিয়াদকে ফোন দিলে ওইদিন সকাল ১০টায় মা-বাবা হাসপাতালের বটগাছের সামনে দেখা করেন এবং বোর্ড বসিয়ে ডাক্তার দেখানো হবে বলে ক্যান্টিনে অপেক্ষা করতে বলেন। 

ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীকে হাসপাতালের বি ব্লকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন।  ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করে এবং একপর্যায়ে পালিয়ে যায়।  পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। 


keya