৭:৫৬ পিএম, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ছন বা খড়ের ঘর এখন বিলুপ্তির পথে

০৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:০২ পিএম | সাদি


মোঃ শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: নান্দাইল উপজেলা সদর সহ প্রতিটি ইউনিয়নেও ছন বা খড়ের তৈরী ঘরের দৃশ্য বেশীকাল আগের নয়।  আধুনিকতার ছোয়াঁয় বর্তমানে ছনের বা খড়ের তৈরি ঘর আজ নেই বললেই চলে। 

দিন দিন ছন বা খড়ের ছাউনির ঘরের প্রচলন কমে আসছে।  হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান কালের গ্রামবাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য ছনের ঘর।  তবে রূপকথার কথার গল্পের মতো আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো নাড়া দেবে।  যেখানে প্রতিটি গ্রামে একাধিক ছনের/খড়ের তৈরি ঘর চোখে পড়ত বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়ন মিলেও এই ধরনের ঘর চোখে পড়ে না।  আধুনিকযুগের টিনের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।  কারণ দেশে উৎপাদিত অধিকাংশ টিন পরিবেশবান্ধব নয়। 

তবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনো কিছু ছনের/খড়ের ঘর চোখে পড়ে। 

স্থানীয় বৃদ্ধদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  ২০-২৫ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ছনের/খড়ের ছাউনির ঘর ছিল।  ছন/খড় যা ব্যবহার করা হতো ঘরের ছাউনি ও পানের বরজের কাজে।  নিন্ম বিত্তের মানুষ এই দুটির একটি দিয়ে ঘরের ছাউনি দিত।  এ ছাড়া কাঠুরীয়ারা ছন/খড় বিক্রি করে সংসার চালাত।  স্থানীয়ভাবে গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত ছিল এই ছনের ছাউনির ঘর।  উচ্চবিত্তরাও শখের বসে পাকা ঘরের চিলে কোটায় ছন ব্যবহার করত। 

উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছনের ঘর গ্রামীণ ঐতিহ্য যা আজ বিলুপ্তির পথে।  শীত ও গরম উভয় মৌসুমে আরামদায়ক ছিল ছনের ছাউনির ঘর।  জানা গেছে, ছনের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিল।  তাদের মজুরি ছিল ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।  বিশেষ কায়দায় ছনকে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেয়া হতো।  ছাউনির উপরে বাঁশ ও বেত দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিয়ে পানি ছিটানো হতো যাতে করে সহজে ছনগুলো বাঁশের ওপর বসে যায়।  সাধারণত বন্যা, ভূমিকম্প, ঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এসব ঘর বছরের পর বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। 

তবে পূর্বপুরুষের স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই দু-একটা মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছেন।  চোর-ডাকাতের ভয়ে মানুষ মাটি ও ছনের ঘর তৈরির আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।  শুরু হয় পাকা দেয়াল, টিনের বেড়া ও চাউনি দিয়ে ঘর তৈরির রেওয়াজ।  এ ছাড়া দুই-তিন বছর পরপর ছন পরিবর্তন করতে হয় বলে একে অনেকে ঝামেলা মনে করে।  সেই থেকে ছনের ছাউনি ঘরের সংখ্যা কমতে শুরু করে।  বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়ে না।  হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির ঐতিহ্যের এই চিহ্নটি। 

হয়তো সে দিনটি খুব বেশি দূরে নয় যে দিন ছনের ছাউনির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।  আর আগামী প্রজন্মের কাছে রূপকথ  হয়ে থাকবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya