৩:১৩ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

জেএসসি পরীক্ষায় সম্রাটের সিট হুইলচেয়ারই

০২ নভেম্বর ২০১৭, ০১:০৪ পিএম | নিশি


এসএনএন২৪.কমঃ সম্রাট।  সাড়ে চব্বিশ লাখ পরীক্ষার্থীর সাথে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় নাম লেখিয়েছে এই শারিরীক প্রতিবন্ধী।  তার দুটি পা-ই বিকল।  পা বিকল তো কি হয়েছে।  হুইলচেয়ারই যেন তার পরীক্ষার সিট।  হুইলচেয়ারে বসেই দিচ্ছে এবারের জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে।  অন্যদের মতো সম্রাটের পরীক্ষাও ভালো হয়েছে বলে জানায়। 

জেলার বাসাইল উপজেলার বাসাইল গোবিন্দ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সম্রাটের জেএসসি কেন্দ্র। 

বুধবার ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাসাইলের ওই কেন্দ্রে দেখা যায়, জীবনে অদম্য উৎসাহ ও মনোবলে ভর করে আলোকিত জীবন গড়ার স্বপ্নে দুর্গম পথ পারি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সম্রাট।  পড়াশোনায় অদম্য ইচ্ছা শক্তি প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ঠেলে উপজেলার হাবলা টেঙ্গুরিয়াপাড়া আব্দুল্লাহেল বাকী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী বাসাইল গোবিন্দ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। 

দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত সম্রাট জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী।  শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  ভাল ফলাফলের আশাও করছে সম্রাট।  অন্যদের মতো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি করার স্বপ্নও তার। 

সম্রাট বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের টেঙ্গুরিয়াপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হাবিবুর রহমান ও শুকুরী বেগমের ছেলে।  সে ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পেয়ে কৃতকার্য হয়।  হাবিবুর রহমানের চার সন্তান।  দুই ছেলে দুই মেয়ে।  বড় মেয়েও প্রতিবন্ধী।  তার এই প্রতিবন্ধী ছেলে সম্রাটকে কখনো পড়ালেখা করানোর কথা চিন্তাও করেনি।  কিন্তু শৈশব থেকেই পড়ালেখার প্রতি প্রবল ইচ্ছে ছিল তার।  প্রবল ইচ্ছা সব অসম্ভবকে সম্ভব করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে সম্রাট। 

সম্রাটের দরিদ্র বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ছেলে প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়া করানোর খুব ইচ্ছা।  আমি গরিব মানুষ পেটের ভাতই জোগাতে পারি না।  ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাব কিভাবে?

হাবলা টেঙ্গুরিয়াপাড়া আব্দুল্লাহেল বাকী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আব্দুস সামাদ বলেন, সম্রাট প্রতিবন্ধী থাকলেও তার মনে অনেক জোর রয়েছে।  হামাগুড়ি দিয়ে সম্রাট প্রায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেত।  সম্রাটকে বিদ্যালয় থেকে একটি হুইলচেয়ার  দিয়েছি।  এর পর থেকে তার বাবা-মা হুইলচেয়ারে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন।  সে সমাপনী পরীক্ষায় এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।  আমরা আশা করছি, সম্রাট জেএসসিতেও ভাল ফলাফল করবে। 

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়।  প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা-দীক্ষার প্লাটফর্মে এনে দেশ ও জাতির উন্নয়নের অংশীদার করানো সম্ভব।  সম্ভাবনাময় এই প্রতিবন্ধী যাতে অকালে ঝড়ে না পড়ে, সে জন্য সমাজের সকলকে এগিয়ে আসা উচিৎ। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী এই পরীক্ষার্থীর যাতে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।