১১:৫৫ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১




জেডিসি পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ কেন্দ্র সচিব ও সুপার জেলহাজতে

১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৩ পিএম | নকিব


মুহাঃ দেলোয়ার হোসাইন, পিরোজপুর : পিরোজপুরের ভাÐাৃরিয়ায় জেডিসি(জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পশারিবুনিয়া অজ পাড়াগাঁয়ে অবস্থিত বিপিএম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে (ভান্ডারিয়া-২) শনিবার অনুষ্ঠিত ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৮নং কক্ষে ছয় ভুয়া পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

তার হলো মুনিয়া আক্তার(মুল পরীক্ষার্থী হাফিজা আক্তার- রোলনং-৩০৬৫৮৫), রুমী আক্তার(মুল পরীক্ষার্থী কারিমা-রোলনং- ৩০৬৫৫০), নুপুর আক্তার(মুল পরীক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার-রোলনং- ৩০৬৫৪৯),সোনিয়া আক্তার(মুল পরীক্ষার্থী বকুল বেগম-রোলনং-৩০৬৫৪১ অসাদুপায় অবলম্বন করে মুল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে জুনিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী নিজ নাম পরিবর্তন করে পশ্চিম গোলবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী হিসেবে নাম রোল ব্যাবহার করে এবং মোমেনুল (মুল পরীক্ষার্থী মো. বায়জীদ-রোলনং-৩০৬৩৮৬) প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা

পড়ে।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল আলম উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মো. তৌহিদুল ইসলামকে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।  তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্র পরিদর্শককে নির্দেশ দিলে কেন্দ্র পরিদর্শক মুল পরীক্ষার্থীদের তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে কেন্দ্রের অফিসে নিয়ে আসা হলে এর সত্যতার প্রমান মেলায় অভিযুক্তদের বিবাদি করে কেন্দ্র পরিদর্শক উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এমাদুল হক বাদি হয়ে কেন্দ্র সচিব বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন, হরিণপালা নেছারিয়া-ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ ১৭ জনকে বিবাদি করে ভাÐারিয়া থানায় একটি মামলা

দায়ের করেন। 

মামলাসূত্রে জানাগেছে, বিপিএম কেন্দ্রে দুই মাদ্রাসার সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অসদুপায় অবলম্বন এবং মোটা অংকের আর্থিক বাণিজ্যের কারনে এ দুর্নীতির আশ্রয় নেন।  বিগত দিনেও ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিলো।  বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি প্রাপ্ত ভান্ডারিয়া উপজেলায় পুর্ব থেকে দু’টি মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র

থাকা স্বত্তেও বিপিএম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটি অনুমতি পাওয়ার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল।  আল-গাযযালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রটি বিপিএম দাখিল মাদ্রাসা থেকে অনধিক চার কিলো মিটার দুরত্ব হলেও ৩০ কিলো মিটার দুরত্ব দেখান হয়েছিল। 

ভুয়া পরীক্ষার্থীর বিষয়ে ভাÐারিয়া থানার ওসি তদন্ত মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, বিপিএম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এমাদুল হক বাদি হয়ে কেন্দ্র সচিব মাওলানা আমির হোসেন ও মাদ্রাসার সুপারসহ ১৭জনকে বিবাদি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।  এদের মধ্যে ১নং বিবাদি মো. আমির হোসেন(৪৯),ছিদ্দিকুর রহমান (৪৫) ও ছয় ভুয়া পরীক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার ,রুমী আক্তার, নুপুর আক্তার,সোনিয়া আক্তার, বকুল ও মোমেনুলসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

৩ নম্বর বিবাদি পশ্চিম গোলবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন(৪০) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালতে সক্ষম হয়। 

গ্রেফতার কৃতদের রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।