৭:১২ এএম, ১ জুন ২০২০, সোমবার | | ৯ শাওয়াল ১৪৪১




জনজীবনে লকডাউন ...

০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৭:০০ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ
জনজীবন লকডাউন হয়ে গেছে দেশ-বিদেশের সকল প্রান্তর, যে পথ চলাচলের অযোগ্য আজ সে পথে এসেছে প্রাণ। 

সে পথের কোনো পথিক নেই আছে শুধু সেনাসদস্যের দাওয়া খেয়ে জীবন ভয়ে পালানোর আলতো ঘ্রাণ। 

দেশের সকল মানুষ বেঁচে থাক নবজীবন ফিরে পাক এইতো নাড়িরটান, প্রশাসন মাঠে নেমেছে ধন্য নেতৃ-ধন্য হাসিনা-ধন্য দেশ প্রধান। 

উৎসুক জনতা আজ রাজপথে ঘুরে সেনা টহলের মোহরা দেখে, কি আজব জাতিরে মোরা! অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজেদের জীবন বিপন্নতায় তবু কেন আজো তাঁরা ঘরে ফিরে না ভাই? দেখতে দেখতে সময় পার, দিন-দিন বার্তা সংস্থার বার্তা পেয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে চলছে সবার। 

যতই অবহেলা করে যাবো নিয়ম-নীতি, কখনো কমবে না মোদের দূর্গতি।  পদে পদে চারিদিকে লক হয়ে আসছে যা জাতির জন্য একটি অশনি সংকেত। 

আমাদের এখনো সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গাফিলতি করছি, লকডাউন ঘোষণা হয়েছে আট-দশদিন হয়ে যাচ্ছে নাহয় আজ অব্দি কেন কুকুর তাড়ানোর মতো " মানুষ"-কে সেনা কর্তৃক ঘরে ঢুকিয়ে দিতে হয়? এই চরম সংকট মুহূর্তটাকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র মেনে নিতে পারেননা? জীবনটাকে কেন এইভাবে নিস্তেজ করে দিতে যাচ্ছি নিজেদের অবহেলার কারনে? এই পরিস্থিতির জন্য আমরাই দায়ী যার ফলে সাধারণ সর্দি-কাঁশি হলেও ডাক্তাররা রোগী দেখতে ভয় পায়, ডাক্তাররা চেম্বারে আসতে ভয় পাচ্ছে।  এই আমাদের কারণে কতো নরমাল রোগী যাদের চিকিৎসা করতে নিদারুন কষ্টে পড়ছে। 

ডেলিভারি রোগী রয়েছে যাদের জন্য রক্তের প্রয়োজন হলে তৎক্ষনাৎ ডোনার পেলেও ডোনেট করতে হিমশিম খাবে।  একদিকে অর্থ সংকট অপরদিকে রোগী নিয়ে দুশ্চিন্তা সাথে সাথে রাস্তায় সেনাটহল ও দোকানপাট বন্ধ কি ভয়ানক পরিস্থিতি। 

কখনো ভেবেছেন কি এমন কঠিন সময় পার করতে হবে? একদিকে জনগণকে ঘরে থাকার জন্য কড়াকড়ি অন্যদিকে গার্মেন্টস শিল্প চালু করাই বিভিন্ন প্রশ্নের দানাবাঁধে।  কি হবে? এতো আইন-কানুন করে যদি লকডাউনের আওতায় আরো কিছুদিন এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে সমতায় আসবে। 

হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে এতো বিশালঅংকের টাকা, দেশের সকল শিক্ষকদের বেতন,সেনা-নৌ-বিমান-সরকারি-বিভিন্ন শাখায় বিনা পরিশ্রমে বেতন প্রদান আদৌ কি জনমনে ভয়ে কাজ করেনা? আমরা কোন মুহূর্তটাকে অতিবাহিত করতে যাচ্ছি। ধীরে ধীরে সব জায়গা আমাদের জন্য লক হয়ে আসছে আগে যেভাবে পথ চলেছি কাল সেটাও চলার সুযোগ হারাবো, উপলব্ধি নিশ্চয়ই করতে পারছেন যে কতোদিন লকডাউন কিংবা বাসায় আছেন চেহেরাটা কেমন হয়েছে আয়নায় গেলে বুঝবেন সেলুনে যাওয়া কতো জরুরি। 

এই দিনগুলো কাটিয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, তা-নাহলে এইভাবে আর কতোদিন দিনমজুররা চলবে? রাস্তায় পেসেন্জার নেই গাড়ি চালিয়ে সংসার চলবে,মধ্যবিত্তের আয়ের একমাত্র অবলম্বন দোকান খোলা কাস্টমার নেই যা আসে তাতে সংসার চলবে, সবজি বিক্রেতা-মাছ বিক্রেতা চিন্তা করে নিদিষ্ট সময়ে বেচা-কেনা শেষ করতে না পারলে কি হবে, দিন যতোই যাবে চিন্তা ততই বাড়তে থাকবে কেননা এর প্রভাব পড়বে চতুর্দিকে। 

(১) যাদের ব্যাংকে জমানো টাকা আছে তা উত্তোলন করে করে চলবে।  (২) যাদের সরকারি-আধা-সরকারি চাকরি নেই তাদেরতো যথাসময়ে বেতন আসবেনা তখন তাঁরা পাওনাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। 

(৩) পরিবারের সদস্য যাঁরা প্রবাসে আছে তাঁরাও একি সমস্যায় জর্জরিত টাকা পাঠানো সম্ভব না সুতরাং সোনা-দানা বন্ধকী রেখে চলবে (৪) কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের দয়ায় কিংবা সাহায্যে চলবে ইত্যাদি ইত্যাদি। 

খাদ্যের উপর যথেষ্ট চাপ আসবে হয়তো এখনকার দিনগুলো ভালোই ভালোই যাচ্ছে।  তখন প্রতিটি জিনিসপত্রের চাহিদা থাকবে কিন্তু দাম বেশি সব মিলিয়ে খাদ্য মজুদের পরিমান চিন্তা আসবে যেহেতু সব দেশে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।  যদি এইভাবে লকডাউন চলতে থাকে নিশ্চয়ই তাঁরা আগে নিজেদের চিন্তা করবে তারপর নাহয় রপ্তানির কথা আসবে।  আমদানি নির্ভর এই দেশে কি পরিমাণ খাদ্য মজুদ রাখলে এই দেশ অন্তত ৫/৬ মাস খাদ্যের জোগান দিতে পারে তাহলে চলে। 

প্রয়োজন হলে দুশ্চিন্তায় পড়বে না এই ঘাটতি মিটাতে? এককথায় বলতে পারি থাকুক লকডাউন, মজুদ রাখুক খাদ্য গোডাউন।  নিয়ম-নীতির বাহিরে নয়, সচেতনতার হোক জয়।  আজ আমরা বড্ড অসহায়ত্ব জীবনযাপন করছি নাজানি আরো কতদিন এই মহামারীর ছোবলে কাটাতে হবে! কোনো পরিবার আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস যে ফেলবে তেমন কোনো অবকাশ নেই।  হে আল্লাহ মোরা তোমার পানে চেয়ে আছি এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।