১২:৫৮ পিএম, ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ শাওয়াল ১৪৪১




জনতার চোখে "এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া?

১১ এপ্রিল ২০২০, ০১:১৯ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ 
এই যে দুনিয়া কিসে,,,র লাগিয়া,
 এতো যত্নে গড়াইয়াছেন সাঁই..... 
ছাঁয়া বাজি পুতুল রূপে বানাইয়া মানুষ, 
যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ? 

সৃষ্টিকর্তার গড়া এই সুন্দর ধরনীতে সবাই বেঁচে থাকতে চাই অনন্ত অনন্তকাল কিন্তু বিধি বাম। চলে যেতেই হবে কেউ কাউকে ধরে রাখার সুযোগ নেই।  

সৃষ্টি জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব করে স্রষ্টার ইবাদতের জন্য আমাদেরকে প্রেরণ করাই হলো সৃষ্টিকর্তার প্রথম উদ্দেশ্য।  কিন্তু দুনিয়াবি সৌন্দর্য আমাদেরকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যার ফলে সৃষ্টি-স্রষ্টা-শ্রেষ্ঠত্ব সবি ভুলতে বসেছি।  

আমি কে? আমাকে কিসের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে? আমার কাজটাই কি? কখনো কোনো কারণে একবার ভাবছি না ফলে নিজেদের মনগড়া মুখে যা মন চাই তাই করি,তা করাই।  

আমার আমিত্বকে বড় করে দেখছি প্রতিনিয়ত অন্যের বেলায় নয় আর মেনে নিতে নিমরাজি প্রকাশ করি।  আমরা কি এটা ভাবিনা আমরা একি রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ ও আমাদের রক্ত "লাল"? আমরাতো এখন "কাকের" চেয়েও অধমে পরিণত হয়েছি কারণ কাকের মাঝে যে একতা এখনো পর্যন্ত বিদ্যমান তা রীতিমতো ভাবায়।  

একটি কাক আহত কিংবা মৃত হোক দেখবেন কাকের গণমিছিল আপনার মাথার উপর কিভাবে কা-কা করে।  কখনো কি বুঝতে পারি, কোন কাকের সাথে কোন কাকের বিরোধ?

আমরা মানবজাতি হয়ে আমাদের একতা-সততাকে আরেক নোংরা মনের মানবজাতির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি হয় স্বেচ্ছায়, নাহয় বিনিময়ে।  অনেক দূরে সরে গিয়েছি ইবাদত-বন্দেগি থেকে, মানুষ মানুষের মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে যাচ্ছি, অন্যায় কাজে সহযোগিতার জন্য উঠেপড়ে লেগেছি, যেখানে যেতে বারণ- সেখানে যাওয়ার জন্য দিশেহারা হয়ে পড়ছি।  

আর নিষেধ করায় আরো কৌতুহল বাড়িয়ে তুলে যে কখনো যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয় সেও তখন যেতে রাজি। 

 প্রতিটি জায়গায় দুষ্টু বুদ্ধির লোকেরা দুষ্টু খেয়ালে চলে ভালো করলেতো অনেক ভালো, খারাপ করলে তা খুবই জঘন্য খারাপ। 

 আমরা মানবজাতিরা "পিঁপড়ার"- চাইতে অধম হয়েছি কারণ আমাদের মাঝে শৃঙ্খলা নেই।  পিঁপড়ের কাছ থেকে শৃঙ্খলা কেমন তা শিক্ষা নেওয়া আবশ্যক। 

 আমরা সেই শৃঙ্খলা হারিয়েছি বলেই আজ আমরা পদে পদে বিপদগ্রস্ত হচ্ছি।  লজ্জাবতী পাতা কারো স্পর্শ পেলে লজ্জায় নুইয়ে পড়ে, আর আমরা লজ্জার কাজ করতে কোনো লজ্জা শরমের বালাই নেই। 

 আগেকার দিনে কোনো অপরাধের কারণে কেউ কারাগারে বন্ধি হলে পরবর্তীতে সে জামিনে আসলে অন্তত মাস খানেক ঘর থেকে বের হয়না লজ্জায় অথচ এখনকার সময়ে সেটা অনেক বীরত্বের কাজ মনে করে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে রাজপথে ঘুরানো হয় আর হাত উঁচিয়ে লম্বা সালাম দিয়ে হাস্যমুখে করমর্দন করে।  আর বঠ গলায় স্লোগান ধরে " জেলের তালা ভেঙেছি অমুক ভাইকে এনেছি"। 

 তোমার এই ধরনীতে বানিয়েছো লক্ষ-কোটি প্রজাতি আর সৃষ্টি করেছো বিচিত্র রকমের বস্তু আর তাদেরই বৈচিত্র্যময়তায় আজ সৃষ্টি জগতে বেঁচে থাকার মায়াটা বাড়িয়ে দিচ্ছে যা আগে বেঁচে থাকার গুরুত্ব বুঝেনি। 

 ধারনায় দিনযাপনে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃত্যুতো একদিন হবেই কিন্তু যে মৃত্যু চোখের সামনেই হতে হয় তখনতো বড়ই চিন্তিত হতে হয়।  

তখন মনেপ্রাণে বাঁচতে চাই প্রয়োজনে যা করতে হয় শুধু কামনা করে এখনতো এইভাবে চলে যাওয়ার কথা নয় তবুও কেন চলে যেতে হচ্ছে?  তখন কবি রবী ঠাকুরের একটি চরণ মনে পড়ে।  

"মৃত্যুকে য এড়িয়ে চলে মৃত্যু তারেই টানে,মৃত্যুকে যে বুক পেতে লয় বাঁচতে তারাই জানে"।  তারপরও যেন এই চরণ চরম ব্যর্থতায় ভুগাই সবি যেন নিঃশেষ হতে চলছে।  

তুমি বানিয়াছো ধনী-গরিব তুমি দিয়েছো যতো রোগ আবার দিয়েছো শেফা, তোমার দয়ায় ফসল ফলে তোমার ইশারায় ফুটে ফুল।  সুখের মাঝে দুঃখ দিয়েছো সেসবের চিন্তায় হয় ব্যাকুল।  

মিষ্টান্নের মাঝে লবণ দিয়েছো বুঝতে পারি কি তার স্বাদ, কতো মায়া-মমতার মাঝে রেখেছো আবার নিয়ে চলো অতি গোপনে ধরনীর বুকে কতো বৃক্ষরাজী ফলাও নিমিষেই।  

সবকিছুর উত্তর খুঁজে পাইনা মানবজাতি কেন হবে এমন? আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তের ফল পূণ্য হবে যখন।  সৃষ্টি তুমি বড়ই বিষ্ময়কর যা মানবের মাঝে দাওনি সে ক্ষমতা বা মস্তিষ্ক।  

কতোজনকে বানালে তুমি ছোট হতে বড় আবার বড় হতে ছোট, পৃথিবীর মায়ায় যেন যেতে নাহি চাই, তাইতো বলি বারে বারে মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে বাঁচিবার চাই।  

তোমার সৃষ্টি বুঝার ক্ষুদ্র এই মস্তিষ্কে মানবের মাঝে যে নাই! হে রাহমানুর রাহিম তোমার সৃষ্টিজগত বুঝার এই ধরাতে কারো ক্ষমতা নাই। 
লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।