৯:০৮ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্লাস্টিক দরজার

০৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৫৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : অর্থনৈতিক ও নান্দনিকতার কারণে দেশজুড়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে কাঠের বিকল্প হিসেবে অনেকেই এখন প্লাস্টিকের দরজা ব্যবহার করছেন। 

কাঠের দরজার দাম বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে কাঠের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের দরজা (আনপ্লাস্টিসাইজড পলিভিনাইল ক্লোরাইড—ইউপিভিসি) ব্যবহার করছেন। 

অন্যদিকে প্লাস্টিক দরজার উৎপাদনও বাড়ছে।  কারণ বছর দশেক আগেও দেশে প্লাস্টিকের দরজার বাজার ছিল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর।  কিন্তু গত পাঁচ-ছয় বছরে চিত্রটি পাল্টে গেছে।  এ দরজার ৯০ শতাংশই এখন দেশে তৈরি হয়। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে প্লাস্টিকের দরজা তৈরি করছে।  এর মধ্যে আছে প্রাণ-আরএফএল, পারটেক্স, ন্যাশনাল পলিমার, ইউনাইটেড ডোরস ও স্বপন ডোরস।  আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই এমন দরজা তৈরি শুরু করার অপেক্ষায় আছে।  পাশাপাশি নিজস্ব যন্ত্রপাতি দিয়ে ছোট আকারের আরও ২৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিকের দরজা তৈরি করছে।  এর বাইরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি করা প্লাস্টিকের দরজা বিক্রি করে। 

রিহ্যাবের কর্মকর্তা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘সাশ্রয়ী মূল্য, প্রতিস্থাপন সুবিধা এবং যুগের চাহিদা মিটিয়ে নিত্যনতুন নকশার কারণে প্লাস্টিকের দরজা ব্যবহারে আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও গ্রাহক সবাই আগ্রহী হয়ে উঠছেন।  আমাদের চলমান প্রকল্পগুলোর ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই এই দরজা ব্যবহৃত হচ্ছে।  সামনের দিনগুলোতে এটি আরও বাড়বে। 

প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি মাসে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি এক লাখের বেশি প্লাস্টিকের দরজা বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকা।  আমদানি হওয়া দরজার বিক্রি মিলে মাসে তা ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।  সে হিসাবে বছরে কমপক্ষে ৬০০ কোটি টাকার প্লাস্টিকের দরজা বিক্রি হয়।  এই বাজার প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। 

ন্যাশনাল পলিমার প্লাস্টিকের দরজা (‘এনপলি’ ব্র্যান্ড) বানানো শুরু করে ২০১৩ সালে।  দেড় বছরের মধ্যেই এই বাজারের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।  এই দরজা বিক্রি হয় দুই হাজার ২০০ টাকা থেকে চার হাজার ৮০০ টাকায়। 

ন্যাশনাল পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘সম্ভাবনাময় হওয়ায় প্লাস্টিকের দরজার ওপর আমরা এখন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছি।  মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।  উৎপাদন ক্ষমতা দিয়ে আমরা বাজার চাহিদার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পূরণ করতে পারছি।  চাহিদা মেটাতে তাই এ বছর শুরু করতে যাচ্ছি আরও একটি কারখানার উৎপাদন। ’ তিনি জানান, দেশব্যাপী চার হাজার ২০০ পরিবেশকের মাধ্যমে তাঁরা দরজা বিক্রি করছেন। 

এই মুহূর্তে প্রাণ-আরএফএল কসমিক, পপুলার, গোল্ড, সলিড, প্লাটিনাম, গ্লাস- মূলত ছয় ধরনের বিভিন্ন নকশা, রং ও আকারের প্লাস্টিকের দরজা বিপণন করছে।  খুচরা পর্যায়ে দুই হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৭০০ টাকায় এসব দরজা কিনতে পাওয়া যায়। 

এ খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার-পাঁচ বছর আগেও প্লাস্টিক দরজার চাহিদার ৫০ শতাংশই মিটত আমদানি হওয়া দরজায়।  ১০ বছর আগে পুরো বাজারই ছিল আমদানিনির্ভর।  আর এখন দেশীয় উৎপাদকেরাই এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।  এমনকি বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্লাস্টিকের দরজা স্বল্প পরিসরে রপ্তানি করছে। 

উদ্যোক্তারা বলছেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ।  প্লাস্টিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।  বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একবার উৎপাদন বন্ধ হলে আবার তা চালু করতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।  এভাবে দিনে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হলে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে কম পুঁজির ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়। 


keya