৮:৩৪ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




জেনে নিন পবিত্র জুমার দিনের ফজিলতসমূহ

২৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৯ এএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : শুক্রবার হলো- সপ্তাহের সাত দিনের একটি দিন।  শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।  জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ মুসলমানরা মসজিদে একত্রিত হয়ে ইমামের পেছনে দলবদ্ধভাবে আদায় করেন। 

শুক্রবার হলো- সপ্তাহের সাত দিনের একটি দিন।  শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।  জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ মুসলমানরা মসজিদে একত্রিত হয়ে ইমামের পেছনে দলবদ্ধভাবে আদায় করেন।  নামাজের পূর্বে খুৎবার মাধ্যমে মুসলমানদের সমসাময়িক বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। 

মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহে এই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।  যদিও খ্রিস্টপ্রধান দেশসমূহে সাধারণত রোববার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।  কোরআনে ও হাদিসে এ দিনের আমল সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে।  দিনটি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য অনেক ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ।  বলা হয়েছে, সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হলো- সর্বোত্তম দিন। 

১. পৃথিবীর ইতিহাসে এদিন ঘটেছিল-

ক. এই দিনে হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল ও একই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।  -সহিহ মুসলিম: ৮৫৪

খ. শুক্রবারের দিনে হজরত আদম (আ.) কে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল, এই দিনেই তার তওবা কবুল করা হয় ও এই দিনেই তার রূহ কবজ করা হয়।  -সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৬

গ. এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, এই দিনে কিয়ামত হবে, এই দিনেই সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে।  -সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭

ঘ. প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পর্বত ও সমুদ্র এই দিনটিকে ভয় করে।  -ইবনে মাজাহ: ১০৮৪

২. উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এটি একটি মহান দিন : জুমার দিনকে সম্মান করার জন্য ইহুদি-নাসারাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; কিন্তু তারা মতবিরোধ করে দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।  পরে ইহুদিরা শনিবারকে আর খ্রিস্টানরা রোববারকে তাদের ইবাদতের দিন নির্দিষ্ট করে।  অবশেষে আল্লাহতায়ালা এ উম্মতের জন্য শুক্রবারকে মহান দিবস ও ফজিলতের দিন হিসেবে দান করেছেন।  আর উম্মতে মুহাম্মদি তা গ্রহণ করে নেয়।  -সহিহ বোখারি: ৮৭৬

৩. জুমার দিন হলো- সাপ্তাহিক ঈদের দিন।  -ইবনে মাজাহ: ১০৯৮

৪. জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়।  আর এ  সময়টি হলো- জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।  -সহিহ বোখারি: ৯৩৫

৫. জুমার রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায় আল্লাহতায়ালা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন।  -সুনানে তিরমিজি: ১০৭৮

৬. জান্নাতে প্রতি জুমার দিনে জান্নাতিরা একত্রিত হবেন।  তখন সেখানে এমন মনোমুগ্ধকর হাওয়া বইবে, যে হাওয়ায় জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হবে।  অনুরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি স্ত্রীদেরও হবে।  -সহিহ মুসলিম: ২৮৩৩, ৭১/৭৫৩

৭. যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত, আল্লাহতায়ালা তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেবেন।  -জামেউস সগির: ৬৪৭০

৮. যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত তেলাওয়াত করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে।  -সহিহ মুসলিম

৯. প্রত্যেক সপ্তাহে জুমার দিন আল্লাহতায়ালা বেহেশতিদের দর্শন দেবেন।  -তারগিব

১০. এই দিনে দান-খয়রাত করার সওয়াব অন্য দিনের চেয়ে বেশি।  ইবনুল কায়্যিম বলেছেন, অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের দানের সওয়াব যেমন বেশি তেমনি শুক্রবারের দান-খয়রাত অন্য দিনের তুলনায় বেশি।  -যাদুল মায়াদ

১১. ইবনুল কায়্যিম আরও বলেছেন, অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের মর্যাদা যেমন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমাবারের মর্যাদা ঠিক তেমন।  তাছাড়া রমজানের কদরের রাতে যেমনভাবে দোয়া কবুল হয়, ঠিক তেমনি শুক্রবারের সূর্যাস্তের পূর্বক্ষণেও দোয়া কবুল হয়।  -যাদুল মায়াদ: ১/৩৯৮



keya