৯:২৬ এএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রোববার | | ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




জাবিতে অপরিকল্পিত হল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

১৫ জুলাই ২০১৯, ০৬:৩৪ পিএম | নকিব


শিহাব উদ্দিন, জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে হল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।  

মানববন্ধনে ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ ফয়সাল সাওনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলা ৪৪ ব্যাচের ওয়াদুদ, ইংরেজি ৪২ ব্যাচের সান,  সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫ ব্যাচের তরিকুল ইসলাম, দর্শন ৪৬ ব্যাচের মাহফুজুর রহমান, আইন ও বিচার বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শেখ জুবায়ের,  ইংরেজি ৪৩ ব্যাচের সাজ্জাদ হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪৪ ব্যাচের মোঃ মাইনুদ্দিন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের মেহেদী হাসান সহ আরও অনেকে। 

এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে হল নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মোটেই যৌক্তিক নয়।  ছোট একটি হলের তিনপাশে তিনটি হল নির্মাণ করা হবে।   এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ  শান্তিনিকেতন নামক জায়গাটি নষ্ট হবে।  নষ্ট হবে লেকের পরিবেশ, দূষিত হবে লেকের পানি।  অচিরেই শান্তিনিকেতনের লেকটি পরিনত হবে ছোট বুড়িগঙ্গায়।  এছাড়াও এখানে অনেক বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ রয়েছে যা ইতোমধ্যে কাটার জন্য লাল দাগ দেওয়া হয়েছে।  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি খেলার মাঠ।   হলের পাশে ছোট যে খেলারমাঠ রয়েছে সেই যায়গায় হল করা হচ্ছে।   এতে শিক্ষার্থীরা খেলা করা যায়গার অভাবে নেশার দিকে ঝুকে পড়তে পারে।  তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।  যদি এভাবে একই স্থানে চারটি হল গড়ে উঠে তাহলে এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পাবে।  বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সেই দায়ভার কি প্রশাসন নিবেন? তাই আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, হল নির্মাণের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হোক। 

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে "কল্যাণ যদি ক্ষতির হয় এমন কল্যাণ চাই না", "গাছপালা ধ্বংসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চাই না", "উন্নয়ন হোক পরিকল্পিত", "মাঠে থাকবে বল, মাঠে কেন হল?,  "হল চাই হল হবে,  বন রক্ষাও করতে হবে", "অবকাঠামো মানেই উন্নয়ন নয়", "বাঁচুক জাবি বাঁচুক বন, আসুক অধিকতর উন্নয়ন" ইত্যাদি স্লোগান লিখা ফেস্টুন, প্লাকার্ড দেখা যায়। 

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান উপস্থিত হয়ে জমায়েত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, " আর মাত্র দুইটা দিন তোমরা অপেক্ষা কর।  আমরা আগামী ১৭ তারিখে তোমাদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় বসবো।  এখানে তোমরা তোমাদের দাবিগুলো উত্থাপন করার সু্যোগ পাবে।  তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার নতুন করে বিবেচনা করবেন বিষয়টি নিয়ে। "

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীন ছয়টি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  গত ৩০ জুন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, ১০ তলা বিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।  ছাত্রদের তিনটি হল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পার্শ্বে নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।  হলের স্থান পুনঃনির্ধারণের জন্য মাননীয় উপাচার্য বরাবর স্বারকলিপি জমা দেওয়া স্বত্তেও কোন আমলে নেননি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 


keya