৭:২৩ এএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | | ৫ রজব ১৪৪১




জাবিতে ইবি খেলোয়াড়দের উপর হামলাঃ রক্তক্ষরণের সাজা শুধুই সতর্কবার্তা

১৬ জানুয়ারী ২০২০, ১১:০৪ এএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ,ইবি সংবাদদাতা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীদের কতৃক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) খেলোয়াড় ও র্শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় জাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সাজা হিসেবে শুধু সতর্ক করেই ক্ষান্ত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

ঘটনার আট মাসের অধিক সময় পর গত ১৯ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। 

অফিস আদেশে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট চলাকালে জাবিতে ইবির হ্যান্ডবল টিম ও শিক্ষকের উপর জাবি শিক্ষার্থীদের হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে হিসেবে উল্লেখ করা হয়।  তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।  হামলায় জড়িতদের উল্লেখযোগ্য কোন শাস্তি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভূক্তভোগীরা। 

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যন্ডবলন টুর্নামেন্টে গত ১০ এপ্রিল জাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইবি ও জাবির খেলা অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় খেলার মাঠে ঢুকে ইবির খেলোয়াড়দের উপর হামলা করে জাবির শিক্ষার্থীরা।  পরে দলের টিম ম্যানেজার ও শিক্ষকরা আটকাতে গেলে তাদেরকেও আঘাত করে হামলাকারীরা। 

এতে ইবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ও ত্রীড়া পরিচালক ড. সোহেল সহ ৯ জন খেলোয়াড় আহত হয়।  এর আগে ইবির খেলোয়াড়দের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকিও দিয়েছিল জাবি শিক্ষার্থীরা।  ঘটনার প্রতিবাদ করে ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানায় ইবি।  বিভিন্ন মহল থেকে এ হামলার নিন্দা জানানো হয়। 

জাবির পক্ষ থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হলেও পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে শুধু সতর্কবার্তা দিয়েছে জাবি প্রশাসন।  তারা হলেন, রসায়ন বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহিন ফজলে রাব্বি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জামিনুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম আহমেদ। 

এমন রক্তক্ষরণের ঘটনার সাজায় শুধুই সতর্কবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক, খেলোয়াড়সহ ইবি শিক্ষার্থীরা। 

হামলায় আহত ইবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম কোন ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করতেও কুন্ঠাবোধ করত না।  জাবির অধ্যাদেশে যদি এই অপরাধে এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি হয়ে থাকে তাহলে এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। ’