৬:০৪ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


জবিতে “রোহিঙ্গা সঙ্কটে অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সম্ভাব্য সমাধান" সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৭ জুলাই ২০১৮, ০৭:৫৩ পিএম | মাসুম


আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির জবি প্রতিনিধি :  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের ইকোনমিক্স স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে (The Economic Impacts and Possible Solutions to Rohingya crisis) তথা “রোহিঙ্গা সঙ্কটে অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সম্ভাব্য সমাধান “সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

দুপুর ১২.০০ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩.০০ টা পর্যন্ত এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। 

সেমিনারে অর্থনীতি বিভাগের ১২,১১,১০ম ব্যাচ সহ চারটি গ্রুপে ৮ টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।  বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এর পর্যবেক্ষণ ,সমস্যা তুলে ধরে এর কিছু সম্ভাব্য সামাধানের পথও আলোচনায় স্থান পায়।  জানা যায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পেছনে বছরে চার হাজার কোটি টাকার বেশি খরচের ধারণা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে।  এখন হয়তো বিশ্বের অনেক দেশই এগিয়ে আসছে।  তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট নিরসন না হলে হয়তো বাংলাদেশকেই ব্যয়ভার বহন করতে হবে। 

বক্তারা বলেন,দিনে দিনে রোহিঙ্গা ক্যাপে বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বাড়ছে নারী ও শিশুর মৃত্যুর হার।  মানবিক সমস্যার পাশাপাশি এই সংকট আরও অসংখ্যক সমস্যা তৈরি করছে। 

নারী, শিশু ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার বিষয় হয়ে পড়েছে।  রোহিঙ্গা সমস্যাটি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নয়, আন্তর্জাতিক।  ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে এটি মোকাবেলা করতে হবে। 

রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তার অন্যতম হলো অর্থনৈতিক।  এতে ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়ছে, দিনমজুরের সংখ্যা বাড়ছে।  এছাড়া বাড়ছে জীবন যাত্রার ব্যয়।  অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা কক্সবাজার।  রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কারণে এ খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  আসছে পর্যটন মৌসুমেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।  নিরাপত্তার সংকট তৈরি হলে পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটক কমে যাবে।  অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর একমাত্র পথ মিয়ানমার। 

অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক জিল্লুর রহমান বলেন,এক বছর আগের তুলনায় মোটা চালের দাম ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।  চালের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো তিনি আরো বলেন,সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। 

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.আইনুল ইসলামের সভপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপিকা তাবসসুম জামানের পরিচালনায় সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহুমুদ হাসান শাহ,সোমা ভট্টাচার্য,যোবায়ের বিন আমির,প্রভাষক রাজেশ কুমার দেব,কূহিনুর আক্তার প্রমুখ সহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।